বিদেশি ক্রেতার চাহিদামতো ঠিকই তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়। কিন্তু পণ্য হাতে পাওয়ার ৩-৪ মাস পর ভিনদেশি ক্রেতারা অভিযোগ করেন, পণ্যে গরমিল রয়েছে। এদিকে হিসাব ঠিকঠাক দেখালেও কী করে পণ্য ঘাটতি! সেটা ভেবে কোনো কূলকিনারা পান না দেশীয় মালিকেরা। সম্প্রতি এনভয় গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে পুলিশ এই রহস্য বের করেছে।
ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ঢাকার আশুলিয়া থেকে এনভয় গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠান রপ্তানির জন্য কাভার্ড ভ্যানে চট্টগ্রাম পোর্টে তৈরি পোশাক পাঠায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির পাঠানো তৈরি পোশাকের ৩০-৩৫ শতাংশ পথেই চুরি হয়। আর এই চোরাই পোশাক নেপাল, ভুটানসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বিক্রি করে দিচ্ছেন চোরাই চক্রের সদস্যরা। এতে চক্রের সদস্যদের সহযোগিতা করছেন গাড়িচালক, বিদেশের অসাধু ক্রেতাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি। এই চোর চক্রের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, চক্রের সদস্যরা মাঝরাস্তায় গাড়ি থামিয়ে চালকের সহযোগিতায় প্রতি কার্টুন খুলে কিছু মালামাল রেখে সেগুলো যত্ন করে হুবহু আগের মতো লাগিয়ে দেয়। গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ পথিমধ্যে বুঝতেই পারে না যে, এটা থেকে মালামাল চুরি হয়েছে। যখন বিদেশে পৌঁছায়, তখন ধরা পড়ে।
হাফিজ আক্তার জানান, সম্প্রতি এনভয় গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করে ৫৩ হাজার পোশাক নিয়ে ঢাকা থেকে রপ্তানির জন্য চট্টগ্রামের উদ্দেশে কাভার্ড ভ্যান যাত্রা করে। এ সময় কাভার্ড ভ্যান থেকে ৬০ লাখ টাকার পোশাক চুরি হয়। এ ঘটনায় ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়। এরপর গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ তদন্ত শুরু করে। সন্ধান পায় একটি চোর চক্রের। গ্রেপ্তার করা হয় এ চক্রের পাঁচ সদস্যকে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সবুজ (৩০), মো. মোতাহার হোসেন (৩৮), মো. হানিফ (৩৭), মো. নজরুল ইসলাম (২০) ও মো. আবুল কাশেম (২১)।
হাফিজ বলেন, দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখে গার্মেন্টস খাত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস পণ্য চুরির ফলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্টের পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতা হারাতে হচ্ছে। যে কারণে এ খাতটি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।