শাশুড়ি পান্না আক্তারের সামনেই পুত্রবধূ তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতেন। পুত্রবধূ আশা আক্তারের এই দেখা-সাক্ষাতের কিছুই জানতেন না পান্নার ছেলে পাভেল। বিয়ের আগে স্থানীয় আরিফ গাজী নামের এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল আশার। সেই সূত্র ধরে আরিফ আশার সঙ্গে বিয়ের পরও গোপনে দেখা করতে আসতেন। পান্নার অনেক গোপন বিষয় আরিফ জেনে গিয়েছিলেন বলে পুত্রবধূর সঙ্গে মেলামেশায় বাধা দিতেন না পান্না।
এক দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশার সঙ্গে দেখা করতে যান আরিফ। এ সময় আশাকে না পেয়ে পান্নার সঙ্গেই গল্প জুড়ে দেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে আরিফের মাথায় খুন চেপে বসে। পান্নার ঘরে থাকা স্বর্ণালংকারের লোভ পেয়ে বসে তাঁর। পাশে থাকা একটা ছুরি দিয়ে পান্নাকে পেছন দিক থেকে আঘাত করেন। বালিশচাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। নেশার টাকা জোগাতে সেদিন ঘরে থাকা গয়না নিয়ে পালিয়ে যান আরিফ। গত ২৪ অক্টোবর বংশালের সিদ্দিকবাজার এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
পান্না আক্তারকে হত্যার ঘটনায় খিলগাঁও থানার নন্দীপাড়ায় অভিযান চালিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার খুনি আরিফ গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ পুলিশকে হত্যার এমন বর্ণনা দেন। ডিএমপি গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ জোনের কোতোয়ালি জোনাল টিমের এডিসি সাইফুর রহমান আজাদ আজকের পত্রিকাকে এই তথ্য জানান।
আজাদ বলেন, লুট করা গয়নার দাম ৩০ হাজার টাকা হলেও এটি মাত্র সাড়ে আট হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন আরিফ। তাঁর কাছ থেকে মৃত পান্নার মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মায়ের হত্যার ঘটনায় ঘাতককে না চিনলেও ২৫ অক্টোবর বংশাল থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন পাভেল। মামলাটির তদন্ত করতে গিয়ে পান্নার সঙ্গে যোগাযোগ থাকা স্বামীর তিন বন্ধুসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে আরিফের সন্ধান মেলে।