হোম > অর্থনীতি > নতুন উদ্যোগ

বিআইএন বাধ্যতামূলক: ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ব্যাংকিং আটকে শর্তের জালে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ব্যবসার ব্যাংক হিসাব খোলা ও ব্যবসা সম্প্রসারণে ঋণ নিতে এখন বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবসায়িক শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) দেখাতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছর থেকে কার্যকর হওয়া এ শর্তে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তারা। এ ধরনের অনেক উদ্যোক্তার বিআইএন না থাকায় দৈনন্দিন ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ এবং নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে বাড়তি জটিলতা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে। এর প্রায় ৯৯ শতাংশই ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি ধরনের ব্যবসা। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন ৩ কোটির বেশি মানুষ। শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশের সঙ্গে এই খাত যুক্ত। এ ছাড়া দেশের মোট দেশজ উৎপাদনেও সিএমএসএমই খাতের অবদান ২৫ থেকে ৩২ শতাংশ।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এই সমস্যা বিবেচনায় শর্তটি শিথিল বা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে দেওয়া একটি চিঠিতে সংগঠনটি বলেছে, অনেক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তার এখনো বিআইএন নেই। আবার নতুন করে নিবন্ধন করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও প্রক্রিয়া শেষ করতেও সময় লাগছে। কিন্তু এতে দৈনন্দিন ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ এবং নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন।

এবিবি ক্ষুদ্র, কুটির ও অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিআইএনের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। সেটিও সম্ভব না হলে পর্যায়ক্রমে এ নিয়ম কার্যকর এবং প্রস্তুতির জন্য উদ্যোক্তাদের বাড়তি সময় দেওয়ার অনুরোধ করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি ব্যাংকে থাকা উদ্যোক্তাদের বিদ্যমান তথ্য ও নথিকে সহায়ক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

তবে এবিবির এই অনুরোধ বিবেচনার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে এনবিআর। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, এটি এনবিআরের নিজস্ব কোনো শর্ত নয়; আইনেই এর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৪(৩)(ক) ও (খ) ধারায় ব্যবসার জন্য চলতি বা এসটিডি হিসাব খোলা ও পরিচালনা এবং ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিআইএন উপস্থাপনের বিধান রয়েছে।

এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, নিয়মটি ছোট, মাঝারি কিংবা বড়—সব ধরনের ব্যবসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এর উদ্দেশ্য হলো ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনা এবং কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার আওতা বাড়ানো। ফলে ব্যাংক বা এনবিআর নিজেদের সিদ্ধান্তে এ শর্ত বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।

অবশ্য উদ্যোক্তাদের আপত্তি মূলত নিয়মটির উদ্দেশ্যে নয়, বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শাহ পরান বলেন, বিআইএনের জন্য অনলাইনে আবেদন করা গেলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করাই বড় সমস্যা। প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন নথি ও অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেক উদ্যোক্তাকে দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তাঁর মতে, নিয়মটি একসঙ্গে কঠোরভাবে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ হয়, এতে চাপও অনেকটা কমবে।

বিআইএন বাধ্যতামূলক করায় ভ্যাটের আওতা বাড়বে। তবে এতে ক্ষুদ্র ব্যবসার ব্যাংকিং ও ঋণ নেওয়ার পথে যেন বাড়তি বাধা না হয়, সেই বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে।