নতুন শেয়ার ইস্যু না করেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে নির্দিষ্ট শ্রেণির সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানি। এ জন্য উদ্যোক্তা, পরিচালক ও পুরোনো শেয়ারধারীদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে তালিকাভুক্তির প্রথম দিন থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে হবে। এ সুযোগ দিতে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক এক্সচেঞ্জে সিকিউরিটিজের ডাইরেক্ট লিস্টিং) বিধিমালা, ২০২৬’। যা ১৮ অক্টোবর সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত ও কার্যকর হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক এমডি কে এ এম মাজেদুর রহমান আজকের প্রত্রিকাকে বলেন, সরাসরি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ ভালো। এর ফলে সরকারি কোম্পানি, যেমন জীবন বীমা এবং সাধারণ বীমা করপোরেশন, জ্বালানি খাতের ভালো কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি খাতের কোম্পানি এখন বাজারে আসতে পারবে।
নতুন বিধিমালায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি এবং যেসব কোম্পানিতে সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মালিকানা অন্তত ১০ শতাংশ, তাদের সরাসরি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিও আবেদন করতে পারবে। এ ছাড়া সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী অন্তত ৫০০ কোটি টাকা নিট সম্পদ রয়েছে—এমন তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানি তালিকাভুক্তির যোগ্য হবে। বার্ষিক টার্নওভার অন্তত ১ হাজার কোটি টাকা—এমন কোম্পানিও আবেদন করতে পারবে।
তবে যোগ্য কোম্পানি নির্ধারণে বিধিমালায় তার সীমারেখাও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে কোম্পানিকে অন্তত পাঁচ বছর ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। আগের দুই অর্থবছরে মূল ব্যবসা থেকে মুনাফা থাকতে হবে এবং পুঞ্জীভূত লোকসান থাকা যাবে না। সর্বশেষ অর্থবছরে পরিচালন কার্যক্রম থেকে ইতিবাচক নগদ প্রবাহও থাকতে হবে।
বিধিমালায় আরও বলা হয়, সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী কোম্পানি এবং তার উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের কেউ ঋণখেলাপি হতে পারবেন না। এ ছাড়া কোম্পানিকে বিএসইসি নিবন্ধিত ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিনিয়োগযোগ্য মানের রেটিং নিতে হবে। আর্থিক বিবরণী আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান অনুযায়ী তৈরি এবং আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা মান অনুসারে নিরীক্ষিত হতে হবে।
তালিকাভুক্তির পর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধরে রাখতে হবে। এক বছরের মধ্যে বিএসইসির নির্ধারিত করপোরেট সুশাসনের শর্ত পূরণের অঙ্গীকারও দিতে হবে।
শেয়ারের দাম নির্ধারণে কোম্পানি মার্চেন্ট ব্যাংকারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্দেশক মূল্য ঠিক করবে। এ জন্য অন্তত দুটি মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে—যার একটি অ্যাবসলিউট, অন্যটি রিলেটিভ ভ্যালুয়েশন। প্রথম দিন শেয়ার বিক্রির সর্বনিম্ন দাম নির্দেশক মূল্যের চেয়ে অন্তত ২৫ শতাংশ কম রাখতে হবে।
প্রথম লেনদেনের দিন প্রথম দুই ঘণ্টা বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনার দরপ্রস্তাব দিতে পারবেন। এ সময়ে উদ্যোক্তা বা বিক্রির প্রস্তাবকেরা বিক্রির আদেশ দিতে পারবেন না। দুই ঘণ্টা শেষে বিক্রির আদেশ দেওয়া যাবে।
বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিক্রির ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মোট বিক্রি হওয়া শেয়ারের ১ শতাংশের বেশি কিনতে পারবেন না। প্রথম দুই কার্যদিবসে একক আদেশে ১০০টির কম বা ১ হাজারটির বেশি শেয়ার কেনার নির্দেশ গ্রহণ করা হবে না। প্রথম দিন থেকে এক বছর পর্যন্ত প্রস্তাবকেরা কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারবেন না। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাঁরা নিজেদের হাতে থাকা শেয়ারের ৫০ শতাংশের বেশি বিক্রি করতে পারবেন না।
শাকিল রিজভী বলেন, এ বিধিমালার বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং হবে, বিশেষ করে নতুন কোম্পানির শেয়ারের দাম কী হবে, এটা সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের।