হোম > অর্থনীতি

এলডিসি উত্তরণ নিয়ে গোলটেবিল

ব্যবসায়ীদের কথা শুনছে না সরকার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে গতকাল ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির নেতিবাচক প্রভাব এখন বাস্তব অর্থনীতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন শীর্ষ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা। তাঁদের ভাষায়, এই নীতির কারণে বিনিয়োগ কার্যত থমকে গেছে, রাজস্ব আদায়ের গতি দুর্বল হয়েছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঠিক এমন এক সময়ে অর্থনীতি এই চাপে পড়েছে, যখন বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। এলডিসি উত্তরণের সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে তারা বিভিন্ন ফোরাম, বৈঠক ও আলোচনায় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেও নীতিনির্ধারণে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

গতকাল মঙ্গলবার স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ব্যাংকিং খাতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ী নেতারা। রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসিবি) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) শাহ মো. আহসান হাবিব।

আলোচনায় এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি একে আজাদ বলেন, সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির ফলে সুদহার বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বড় ধাক্কা লেগেছে। তাঁর দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। সামনে নতুন মুদ্রানীতি আসছে উল্লেখ করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আগামী ছয় মাসে আরও ১২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি বলেন, দেশে নতুন বিনিয়োগ নেই বললেই চলে, রাজস্ব আদায়ও কমে গেছে। এই নীতির মাধ্যমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়। এলডিসি উত্তরণ নিয়ে ব্যবসায়ীদের বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষিত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, এলডিসি উত্তরণ উন্নয়ন অর্থায়নের ধারা, বাণিজ্য ও রপ্তানি অর্থায়নের ঝুঁকি এবং নিয়ন্ত্রক ও কমপ্লায়েন্স প্রত্যাশায় বড় পরিবর্তন আনবে। রেয়াতমূলক বৈদেশিক অর্থায়ন কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের খরচ বাড়বে, যা ব্যাংকিং খাতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, ২০২৬ সালের নভেম্বরের জন্য দেশ এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। উত্তরণের আগে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছ নীতি ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক গঠন জরুরি।

আইসিসি বাংলাদেশ ব্যাংকিং কমিশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ এ. (রুমি) আলী বলেন, ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এখনো পর্যাপ্ত নয়।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, এলডিসি উত্তরণ কোনো শেষ নয়, বরং নতুন অধ্যায়ের শুরু।

প্রাইম ব্যাংকের এমডি হাসান ও. রশীদ বলেন, এর প্রভাব পুঁজিবাজারেও পড়বে। এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি সিমিন রহমান বলেন, এলডিসি উত্তরণ শুধু অর্থনৈতিক শ্রেণি পরিবর্তন নয়; এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত খাতগুলোতে নীতিনির্ধারণের সুযোগ ও প্রতিযোগিতার ধরনও বদলে দেবে বিশেষ করে ।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের জবাবে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এফবিসিসিআইসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনকে আরও কার্যকর ও পেশাদার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অর্থনীতির জন্য প্রাণবন্ত ব্যবসায়ী সংগঠন প্রয়োজন, পুতুলের মতো নয়। গভর্নর স্পষ্ট করে বলেন, নয়–ছয় সুদহারে আর ফিরে যাওয়া হবে না; সুদহার থাকবে বাজারভিত্তিক। সুশাসন, তদারকি ও গ্রাহক আস্থা বাড়লে সুদহার কমে আসবে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ কমাতে পারলে মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে আসবে।

ব্রাজিলের কোম্পানির সহায়তায় ভারতে বিমান তৈরি করবে আদানি গ্রুপ

পুমার ২৯ শতাংশ শেয়ার কিনছে চীনের অ্যান্টা

একক স্টক এক্সচেঞ্জ গঠনের পরিকল্পনা অন্তর্বর্তী সরকারের

বেশি দামে কিনে কমে বিক্রি করে, দেউলিয়া হতে বসেছে পিডিবি

৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত, ৩টি পাচ্ছে বাড়তি সময়

১ ফেব্রুয়ারি থেকে পাটকল বন্ধের হুমকি, উপদেষ্টাকে চিঠি

রমজানের আগে ভোজ্যতেল-ডাল কিনছে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের ২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কে ‘কিছুটা ছাড়ের’ আশা, ঘোষণা আসছে শিগগির

সোনার দাম তো বাড়ছেই, তবে রুপা যেন ‘ট্রাম্পকার্ড’

ইসলামী ব্যাংক পর্ষদের সঙ্গে শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির মতবিনিময়