পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত লিজিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। দীর্ঘদিন এ তালিকায় থাকা লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে নিয়েও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঋণ কার্যক্রমে শৃঙ্খলার অভাব এবং প্রয়োজনীয় সঞ্চিতি (প্রভিশন) গঠন না করার কারণে কোম্পানিটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা প্রকাশিত হিসাবের সঙ্গে মেলে না। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
২০২৪ সালের আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই বছর কোম্পানিটির প্রকৃত লোকসান হওয়া উচিত ছিল ৩৯৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যা শেয়ারপ্রতি ৭ টাকা ৪১ পয়সা। তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সঞ্চিতি না গঠন করে মাত্র ২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি ৫১ পয়সা নিট মুনাফা দেখিয়েছে।
আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালে লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের মোট নিট সম্পদ ৯৮৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য ১৮ টাকা ৩২ পয়সা দেখানো হয়েছিল। কিন্তু নিরীক্ষকেরা জানিয়েছেন, সঞ্চিতি ঘাটতির পরিমাণ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত ৪২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সঞ্চিতি না গঠনের কারণে সম্পদ, মুনাফা ও ইক্যুইটি অতিরঞ্জিতভাবে দেখানো হয়েছে, ফলে দায় কম মনে হচ্ছে।
যদি ২০২৪ সালে ৪২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার সঞ্চিতি গঠন করা হতো, তাহলে নিট ফলাফল শেয়ারপ্রতি ৭ টাকা ৪১ পয়সা লোকসানে দাঁড়াত। একই সঙ্গে নিট সম্পদ ৯৮৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার পরিবর্তে কমে ৫৬০ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় নেমে আসত এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য ১৮ টাকা ৩২ পয়সা থেকে ১০ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়াত।
নিরীক্ষকেরা আরও উল্লেখ করেছেন, অপর্যাপ্ত মুনাফার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক লংকাবাংলা ফাইন্যান্সকে ওই সঞ্চিতি পরবর্তী সময়ে গঠনের সুযোগ দিয়েছে। তবে এ সুবিধা আন্তর্জাতিক হিসাব মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ বর্তমানে সঞ্চিতি না গঠন করলেও ভবিষ্যতে একসময় এই বিপুল অঙ্কের সঞ্চিতি করতেই হবে, যার নেতিবাচক প্রভাব তখন একসঙ্গে আর্থিক হিসাবে পড়বে। এতে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক ঝুঁকি সম্পর্কে বিভ্রান্ত হচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানিটির মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ১৪৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৮৪৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, অর্থাৎ ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ ঋণখেলাপি অবস্থায় রয়েছে।