হোম > অর্থনীতি

প্রেম আর ডিজিটাল বিনিয়োগে তাঁরা এখন ক্রিপ্টো দম্পতি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ক্রিস্টোফার মস ও মেলিসা ব্রুক। ছবি: সংগৃহীত

প্রেমের শুরুটা কোনো রেস্তোরাঁয়, ডেটিং অ্যাপে কিংবা পরিচিত কোনো বন্ধুর মাধ্যমে নয়। ক্রিস্টোফার মস ও মেলিসা ব্রুকের পরিচয় হয়েছিল ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায়ীদের একটি ডিসকর্ড সার্ভারে। সেখানে অপরিচিত ব্যক্তিরা এনএফটি, টোকেন ও নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতেন।

৩৮ বছর বয়সী মস ওই অনলাইন কমিউনিটিতে পরিচিত ছিলেন ‘আলফা হান্টার’ হিসেবে—অর্থাৎ, অন্যদের জন্য সম্ভাবনাময় অর্থ উপার্জনের সুযোগ খুঁজে বের করতেন। আর ৩৩ বছর বয়সী ব্রুক সেখানে গিয়েছিলেন ক্রিপ্টো সম্পর্কে শেখার জন্য।

পরিচয়ের পর খুব দ্রুতই তাঁদের জীবনে শুরু হয় প্রেমের ইঙ্গিত। মস মজা করে ব্রুককে বলতেন, ‘তুমি আমার ভবিষ্যৎ স্ত্রী। তুমি এখনো সেটা জানো না।’

প্রথম ফোনালাপের ছয় মাস পর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে তাঁদের প্রথম দেখাও হয়। ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব এবার বাস্তব প্রেমে রূপ নেয়। এরপর প্রায় দুই বছর তাঁরা দুই মহাদেশের মধ্যে যাতায়াত করেছেন। মস থাকতেন যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ডে আর ব্রুক নেদারল্যান্ডসে। এমনকি একে অপরের জীবনের অংশ হয়ে থাকার অনুভূতি পেতে তাঁরা প্রায় সারাক্ষণ ভিডিও কলে যুক্ত থাকতেন।

২০২৪ সালের জুনে মস স্থায়ীভাবে নেদারল্যান্ডসে চলে যান। চলতি বছরের এপ্রিলে তাঁদের ঘর আলো করে আসে কন্যাসন্তান মেইসি।

তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয় অর্থের প্রতি একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি দেখে। ব্রুকের ভাষায়, মসের আর্থিক আত্মবিশ্বাসই তাঁর কাছে আকর্ষণীয় ছিল।

মস আগে অ্যাপলে কাজ করেছেন। প্রায় ১৭ বছর শেয়ার ও অপশন কেনাবেচার পর তিনি পুরোপুরি ক্রিপ্টো বিনিয়োগে চলে আসেন। অন্যদিকে, ব্রুক পেশায় ডেন্টাল হাইজিনিস্ট। তাঁর বাবা তাঁকে ব্যাংক সেভিংস অ্যাকাউন্টে সব টাকা ফেলে না রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই থেকেই আয় করা অর্থ ক্রিপ্টোতে বিনিয়োগ শুরু করেন তিনি। প্রথমে ইথেরিয়ামে এনএফটি কিনলেও লেনদেনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় তিনি তুলনামূলক কম খরচের সোলানা নেটওয়ার্কে যান। সেখানেই মসের সঙ্গে তাঁর পরিচয়।

তবে অর্থের বিষয়ে দুজনের স্বভাব একেবারেই আলাদা। মস বেশি ঝুঁকি নিয়ে লাভের সম্ভাবনা খোঁজেন আর ব্রুক তুলনামূলক সতর্ক। একসময় তাঁদের প্রায় ৩৫ হাজার ডলারের এনএফটি পোর্টফোলিও বড় ধরনের ধাক্কা খায়। ব্রুক তখন বিক্রি করে দিতে বললেও মস ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত সেই পোর্টফোলিও অর্ধেকের বেশি মূল্য হারায়। মস বলেন, ‘তখন তার কথা শোনা উচিত ছিল। আমি অতিরিক্ত লোভী হয়ে গিয়েছিলাম।’

বর্তমানে তাঁদের ক্রিপ্টো সম্পদের মূল্য কয়েক লাখ ডলারের ঘরে। মেয়ের জন্যও তাঁরা ছোট একটি ক্রিপ্টো পোর্টফোলিও গড়ে তুলেছেন।

সন্তান হওয়ার পর অবশ্য ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে মসের। এখন তাঁর লক্ষ্য শুধু দ্রুত লাভ নয়, বরং স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা।

সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক স্বচ্ছতা

ক্রিপ্টো দম্পতির এই গল্প আসলে বৃহত্তর একটি পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দেয়। ২০২৬ সালের ওকেএক্সের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞান একজন মানুষকে সম্ভাব্য সঙ্গী হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। জেনারেশন জেডের ৭৬ শতাংশ ও মিলেনিয়ালদের ৭৫ শতাংশ আর্থিক জ্ঞানকে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক গুণ হিসেবে দেখেন।

তবে অর্থ নিয়ে কথা বলা এখনো অনেক দম্পতির কাছে অস্বস্তিকর। টিডি ব্যাংকের গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় পাঁচজনের তিনজন কখনো না কখনো সঙ্গীর সঙ্গে অর্থ নিয়ে কথা বলতে বিব্রত বা ভীত বোধ করেন। প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ সঙ্গী বা পরিবারের কাছ থেকে কোনো না কোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত গোপন করেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিনিয়োগে লাভ হলেও অতিরিক্ত লোভ করা উচিত নয়। ঝুঁকি কমাতে লাভের সময় কিছু সম্পদ বিক্রি করে নেওয়া এবং বিনিয়োগে বৈচিত্র্য রাখা জরুরি। একই সঙ্গে দাম্পত্যে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তও হওয়া উচিত স্বচ্ছ।