হোম > অর্থনীতি

কৃষিপণ্য রপ্তানি: কালীগঞ্জের কাঁচকলা যুক্তরাজ্যের বাজারে

মো. রিয়াদ হোসাইন, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) 

গাজীপুরের কালীগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া কাঁচকলা উৎপাদনের জন্য বিশেষ উপযোগী। এখানে উৎপাদিত কাঁচকলা বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাজ্যে। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের কালীগঞ্জের কাঁচকলা এখন নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাজ্যে। ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রথম চালান পাঠানোর পর এ পর্যন্ত আনুমানিক ২০০ টন কাঁচকলা রপ্তানি হয়েছে। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে তিনটি চালানে কাঁচকলা যাচ্ছে যুক্তরাজ্যে। মাসভেদে রপ্তানির হচ্ছে ৬ থেকে ১৮ টন।

স্থানীয় উদ্যোক্তা জামিল ওয়াহেদ মুহিদের প্রতিষ্ঠান ‘সাদিদ গ্লোবাল এক্সপোর্টস’ এ রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কালীগঞ্জের পাশাপাশি পাশের কাপাসিয়া উপজেলা থেকেও কৃষকের কাছ থেকে কাঁচকলা সংগ্রহ করা হচ্ছে। কার্গো বিমানের মাধ্যমে পাঠানো এসব পণ্যের যুক্তরাজ্যের আমদানিকারক লন্ডনভিত্তিক উসমান ব্রাদার্স লিমিটেড।

রপ্তানিকারক সূত্র বলছে, যুক্তরাজ্যের বাজারে কালীগঞ্জের কাঁচকলার চাহিদা বাড়ছে। লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও যুক্তরাজ্যের আশপাশের বাজারে এর ক্রেতা রয়েছে। চাহিদার তুলনায় স্থানীয় সরবরাহ কম হওয়ায় এখন উৎপাদন বাড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জামিল ওয়াহেদ মুহিদ বলেন, স্থানীয় মাটি ও আবহাওয়া কাঁচকলা উৎপাদনের জন্য উপযোগী। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির চাহিদা বাড়ায় বর্তমানে নিয়মিত চালান পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাঁচকলার সরবরাহ এখন চাহিদার তুলনায় কম। এ কারণে কালীগঞ্জের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কাপাসিয়া থেকেও কৃষকের কাছ থেকে কাঁচকলা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে উৎপাদন বাড়াতে একটি বড় সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

রপ্তানির কারণে স্থানীয় কৃষকেরাও কাঁচকলার তুলনামূলক ভালো দাম পাচ্ছেন। কালীগঞ্জের কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, আগে কাঁচকলা বিক্রির জন্য স্থানীয় বাজারের ওপর নির্ভর করতে হতো। অনেক সময় সঠিক দাম পাওয়া যেত না। এখন রপ্তানিকারকেরা সরাসরি খেত থেকে কাঁচকলা সংগ্রহ করায় বাজারজাতকরণের ঝুঁকি কমেছে। উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়েও কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়ভাবে কাঁচকলার উৎপাদন বাড়াতে কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়ার কৃষকদের সঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে এই সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে কতজন কৃষক যুক্ত এবং কী পরিমাণ জমিতে কাঁচকলা উৎপাদিত হচ্ছে, তার নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

রপ্তানিকারক সূত্র জানায়, প্রথম চালানের পর ধীরে ধীরে রপ্তানির পরিমাণ বাড়ছে। বর্তমান চাহিদা ধরে রাখতে পারলে আগামী এক বছরে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টন কাঁচকলা রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। তবে এ লক্ষ্যে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মান বজায় রাখা, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরিবহনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। যুক্তরাজ্যের পর মধ্যপ্রাচ্যের বাজারেও প্রবেশের পরিকল্পনা রয়েছে রপ্তানিকারকের। ওই অঞ্চলের বাজারে প্রবেশ করা সম্ভব হলে কাঁচকলার রপ্তানি আরও বাড়তে পারে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম কামরুল ইসলাম বলেন, কৃষিপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে স্থানীয় কৃষক ও উদ্যোক্তারা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়ছে। কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, উৎপাদনে সহায়তা এবং উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।