হোম > অর্থনীতি

হাতিয়ার শুঁটকিপল্লি: মৌসুমে শতকোটি টাকার বাণিজ্য

ইসমাইল হোসেন কিরন, হাতিয়া (নোয়াখালী) 

হাতিয়ার উপকূলজুড়ে গড়ে উঠেছে শুঁটকিপল্লি। জাহাজমারা ইউনিয়নের জংগলিয়ার খালের পল্লিতে শুঁটকির স্তূপ। ছবি: আজকের পত্রিকা

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার উপকূলজুড়ে গড়ে উঠেছে এক মৌসুমি অর্থনীতির শক্তিশালী কেন্দ্র—শুঁটকিপল্লি। বছরের অধিকাংশ সময় নির্জন থাকা বেড়িবাঁধের বাইরের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল শুষ্ক মৌসুমে পরিণত হয় কর্মচঞ্চল শিল্পাঞ্চলে। জেলে, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র দোকানিদের অংশগ্রহণে ২৪ ঘণ্টা সচল থাকে এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, যেখানে এক মৌসুমেই হচ্ছে শত শত কোটি টাকার লেনদেন।

জাহাজমারা ইউনিয়নের জংগলিয়ার খালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন ঘাটে চার-পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সারি সারি শুঁটকির স্তূপ দেখা যায়। মাছ ধরা, শুকানো, মজুত ও প্যাকেটজাত—পুরো প্রক্রিয়া এখানে একটি সংগঠিত ভ্যালু চেইনে পরিণত হয়েছে। কেউ মাপজোখ করছেন, কেউ শুকাতে দিচ্ছেন, আবার কেউ বস্তাবন্দী করে বাজারজাতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

হাতিয়ায় প্রায় ২ লাখ মানুষ সরাসরি মৎস্য খাতের সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে অনেকে ১২ মাস নদীতে থেকে বর্ষায় ইলিশ মাছ ও শুকনো মৌসুমে চেওয়া মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। ইলিশের অনিশ্চয়তার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আয় কমে গেলেও চলতি মৌসুমে চেওয়া মাছের প্রাচুর্য সেই ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় মাঝি জসিম উদ্দিন বলেন, একটি নৌকা থেকে মৌসুমে ৩৫-৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে। প্রতিমণ শুঁটকি প্রায় ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু জংগলিয়ার ঘাট থেকে এক মৌসুমে ৫০ কোটি টাকার বেশি শুঁটকি বিক্রি হয়।

উপজেলার কাদিরা, বুড়িরদোনা, রহমত বাজার, আচকা বাজার, কাজির বাজার, বন্দরটিলা, নিঝুম দ্বীপসহ অন্তত ১০টি ঘাটে ব্যাপকভাবে শুঁটকি উৎপাদিত হচ্ছে। এসব ঘাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী বাজার—যেখানে চা, মুদি, জ্বালানি ও নৌযানের যন্ত্রাংশের দোকানসহ ছোটখাটো সেবা খাতও বিকশিত হয়েছে।

হাতিয়ার শুঁটকির প্রধান পাইকারি বাজার ময়মনসিংহ। এ ছাড়া বরিশাল, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায়ও সরবরাহ করা হয়। এসব শুঁটকি মূলত মাছ ও পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতেও অবদান রাখছে।

জংগলিয়া ঘাটের ব্যাপারী আবুল বাসার জানান, মৌসুমের শুরু থেকে চার ধাপে প্রায় ১০ হাজার মণ শুঁটকি বিভিন্ন মোকামে পাঠানো হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। মৌসুমের শুরুতে শুঁটকির দাম কম থাকলেও এখন কিছুটা বেড়েছে।

এই খাতে আয়ের পাশাপাশি ব্যয়ও কম নয়। একেকটি নৌকার প্রতিদিনের পরিচালন খরচ ২০-২২ হাজার টাকা। একেকটি ‘কাটাল’ বা ধাপে ৬-৭ দিন নদীতে থাকতে হয়। ফলে লাভের মার্জিন নির্ভর করে মাছের প্রাপ্যতা ও বাজারদরের ওপর। এ ছাড়া ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, সংরক্ষণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, উন্নত প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির অভাব এবং যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা এই শিল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সুখচর গ্রামের কাইয়ুম মাঝি বলেন, দ্রব্যমূল্য অনেক বেড়ে গেছে। একেকটি কাটালে দিনে ২০-২২ হাজার টাকা খরচ হয়। এক মাসে দুটি কাটাল পাওয়া যায়। তখন নদীতে প্রচুর চেওয়া পাওয়া যায়। কাটাল ছাড়া মাসের অন্য সময় ঘাটে বেকার বসে থাকতে হয়। চলতি মৌসুমে প্রায় ২০ লাখ টাকার শুঁটকি বিক্রি হয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, চলতি বছরে প্রায় ৪০ হাজার টন শুঁটকি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। চেওয়া শুঁটকি উৎপাদনে হাতিয়ায় ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখানকার শুঁটকির চাহিদা রয়েছে। আধুনিক শুকানোর পদ্ধতি, সংরক্ষণ ও পরিবহন সুবিধা উন্নত করা গেলে এই খাত থেকে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি সংকটে বন্ধ পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাড়ছে লোডশেডিং

নারী বাইকার: লাইনে দাঁড়ালে ভোগান্তি অগ্রাধিকার নিলে কটূক্তি

ইআরএফের সেমিনার: চাপে অর্থনীতি, সামনে কঠিন সময়

ইরান যুদ্ধের ৫০ দিনে তেলের বাজারে ৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি

এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের চুক্তি স্বাক্ষর

এএএবির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

হরমুজে প্রবেশ করেও অতিক্রম করতে পারেনি বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’

হরমুজ প্রণালির পথে ‘বাংলার জয়যাত্রা’

হরমুজ খোলার ঘোষণায় তেলের দাম কমল ১৩ শতাংশ

হরমুজ বন্ধের প্রভাব দস্তানা উৎপাদনেও, স্বাস্থ্য খাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা