সৌদি আরবের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ রাস তানুরা শোধনাগার ও টার্মিনাল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের জ্বালানি তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) এবং কাতার থেকে আসা এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান বোরো মৌসুম এবং ক্রমবর্ধমান গরমের কারণে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার মুখে এই পরিস্থিতি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রতি বছর সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টন ‘অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড’ (এএলসি) আমদানি করে। বিপিসির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১ থেকে ৩ মার্চের মধ্যে এক লাখ টন তেল একটি জাহাজে লোড করার কথা ছিল। জাহাজটি বর্তমানে বন্দরে অবস্থান করলেও শোধনাগার বন্ধ থাকায় তেল ভরা সম্ভব হচ্ছে না।
এর বাইরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করে দিয়েছে ইরান। ফলে তেল লোডিং শেষ হলেও জাহাজটি সময়মতো ওমান উপসাগর হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি তেল আমদানির মাত্র ২০ শতাংশ অপরিশোধিত, যা হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত তেল চীন, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে আসায় সেখানে বড় কোনো ঝুঁকি নেই। তবে অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।
বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুত সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে:
ডিজেল: ২ লাখ ১৭ হাজার ৩১৭ টন (১৪-১৫ দিনের চাহিদা)
পেট্রল: ২১ হাজার ৭০৫ টন (১৭ দিনের চাহিদা)
অকটেন: ৩৪ হাজার ১৩৩ টন (৩১ দিনের চাহিদা)
ফার্নেস অয়েল: ৭৮ হাজার ২৭৮ টন (প্রায় ২ মাসের চাহিদা)
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সরবরাহ ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষি (বোরো সেচ) এবং পরিবহন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এলএনজি ও গ্যাস সংকটের মেঘ
তেলের পাশাপাশি গ্যাসের সরবরাহ নিয়েও শঙ্কা বাড়ছে। দেশে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ঘাটতি রয়েছে (চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, সরবরাহ ২৬৫ কোটি ঘনফুট)। কাতার থেকে এলএনজি মূলত হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। ইরানের আক্রমণের কারণে কাতার এলএনজি উৎপাদন বন্ধ রাখায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পেট্রোবাংলার মতে, ১২ মার্চ পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহে সমস্যা নেই। তবে নতুন কার্গো আসা বাধাগ্রস্ত হলে মার্চ মাসের শেষ দিকে গ্যাস সংকট তীব্র হতে পারে, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়ে লোডশেডিং বাড়তে পারে।