গণতন্ত্রকে কেবল নির্বাচনের প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখা ভুল ধারণা—এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহি এবং নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। আত্মতুষ্ট হলে গণতন্ত্র ভঙ্গুর হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত ‘সংকট, সহিংস সংঘাত ও গণতন্ত্রের সংহতি: ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা’ শীর্ষক আলোচনায় এসব তথ্য জানান বিশেষজ্ঞরা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হকের সভাপতিত্বে এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (অর্থ মন্ত্রণালয়) ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর উপস্থিতিতে আলোচনায় অংশ নেন বিশেষজ্ঞরা।
অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলফান তাজুদ্দিন তাঁর প্রবন্ধে ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে প্রেসিডেন্ট সুহার্তোর পতনের মাধ্যমে তিন দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসন শেষ হয়। অর্থনৈতিক মন্দা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ১৯৯৯ সালে চার দশক পর প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতা তীব্র আকার ধারণ করেছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, কর্তৃত্ববাদী প্রবৃদ্ধি সাময়িক সাফল্য আনলেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও সহিংসতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো মতপার্থক্য ও সংঘাতকে সহিংসতা ছাড়াই সমাধান করার ক্ষমতা। তবে সীমাবদ্ধতাও আছে—হিটলারও নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে স্বৈরশাসক হয়ে গিয়েছিলেন। তাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া সব সময় চলমান রাখতে হবে। আত্মতুষ্ট হলে এটি ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। ইন্দোনেশিয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কর্মরত একজন মন্ত্রীকেও কারাগারে পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, বরং নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্বাধীন আদালতও থাকা জরুরি।
ইন্দোনেশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, সহিংস পরিবর্তন বা বিদ্রোহের পর সংঘাত এবং গণপিটুনি একটি স্বাভাবিক চিত্র। ইন্দোনেশিয়ায়ও এমন হয়েছে, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কমে এসেছে। সংঘাত সমাজজীবনের অংশ; কিন্তু যখন তা সহিংস রূপ নেয়, তখনই সমস্যা দেখা দেয়।