বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়াধীন ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অধীন ১২টি ক্যাপিটাল মার্কেট সাবসিডিয়ারি কোম্পানির বিষয়ে কার্যক্রম চালানো ও ঘাটতি পূরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
আজ সোমবার বিএসইসির কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালামের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কয়েকটি স্টক ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংককে ৩০ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। আর এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে নন-সম্পদসংক্রান্ত ঘাটতি নিরসন ও প্রয়োজনীয় বিধিবিধান পরিপালনের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চারটি স্টক ব্রোকার ও দুটি মার্চেন্ট ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান পরিপালনে ঘাটতি রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের পরিপালন নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময় দেওয়া হয়েছে।
এই তালিকায় থাকা চারটি স্টক ব্রোকার হলো প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেড এবং পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড। আর দুটি মার্চেন্ট ব্যাংক হলো আইএল ক্যাপিটাল লিমিটেড ও জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। এ ছাড়া প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকেও এ সিদ্ধান্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, দুটি স্টক ব্রোকার ও দুটি মার্চেন্ট ব্যাংকের কার্যক্রম চালু রাখা এবং সম্পদসংক্রান্ত কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এই চার প্রতিষ্ঠান হলো স্টক ব্রোকার প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ ব্রোকিং লিমিটেড ও এভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং মার্চেন্ট ব্যাংক পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড ও প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।
এসব প্রতিষ্ঠানের নন-সম্পদ ও নন-সম্পদসংক্রান্ত কার্যক্রম চলমান রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিছু মূল্যায়ন ও সম্পদসংক্রান্ত বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
এ ছাড়া এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ক্ষেত্রে নন-সম্পদসংক্রান্ত ঘাটতি নিরসন ও প্রয়োজনীয় বিধিবিধান পরিপালনের জন্য ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়াধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অধীন এসব পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিএসইসির এ সিদ্ধান্তকে কার্যক্রম পরিচালনা ও বিধিবিধান পরিপালনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।