বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) কাছে মোট ৩৩ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের। এর মধ্যে বিপিসির পাওনা ১১ হাজার ৬৪৭ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং পেট্রোবাংলার পাওনা ২১ হাজার ৬৯০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এই অর্থ মূলত আমদানি শুল্ক ও কর বাবদ, যা চট্টগ্রাম কাস্টমসের বার্ষিক রাজস্ব আয়ের প্রায় অর্ধেক।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সরকারি এই দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা আদায়ে জোর দিতে দাবিনামা জারির নির্দেশনা দিয়েছে। সম্প্রতি কাস্টমস কর্মকর্তাদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার তৌহিদা ইসলাম বলেন, ‘বিপিসিসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাওনা দ্রুত আদায়ে দাবিনামা জারি করা হবে। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি।’
তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে এসে উচ্চপর্যায়ের সভা করেন। সভার কার্যবিবরণী ২২ ডিসেম্বর এনবিআর চেয়ারম্যান অনুমোদন করেন।
বিপিসির পাওনা মূলত জ্বালানি তেল আমদানির শুল্ক ও কর বাবদ। এ বিষয়ে বিপিসির পরিচালক (অর্থ) যুগ্ম সচিব নাজনীন পারভীন বলেন, এটি সরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাওনার বিষয়। এতে সরকারের কোনো সমস্যা হবে না এবং জ্বালানি তেল আমদানিতে কোনো প্রভাব পড়বে না। দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত আছে।
জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মো. মিজানুর রহমান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ২১ হাজার ৬৯০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বকেয়া থাকার কথা স্বীকার করে জানান, এটা মূলত ২০২১ সাল থেকেই এলএনজি আমদানির শুল্কের ভ্যাট বাবদ বকেয়া। তিনি বলেন, আগের নিয়ম অনুযায়ী আমদানি ও বিক্রি পর্যায়ে দুবার ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় হতো। নতুন বাজেট অনুযায়ী, এলএনজি আমদানি অথবা বিক্রি পর্যায়ে একবারই ভ্যাট আদায় করা হবে।