হোম > অর্থনীতি

পূর্বাভাস বনাম বাজেট

কোনো সংস্থার পূর্বাভাসে বিতর্ক চায় না সরকার

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া কোনো সংস্থার পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চায় না সরকার। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়া অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেছেন।

চলতি অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫০ শতাশ ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস বলছে ভিন্ন কথা। আন্তর্জাতিক এসব দাতা সংস্থা তাদের দেওয়া বিভিন্ন আউটলুক প্রতিবেদনে দাবি করছে, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা নেই।

সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে বলেছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে। এদিকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ৩ দশমিক ৪ শতাংশের পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাসও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার দ্বিতীয় দিনে আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর মুখোমুখি হন ব্যাংককে অবস্থানরত বাংলাদেশি সাংবাদিকেরা।

এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক এসব সংস্থা নিজ নিজ হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তাদের পূর্বাভাস দিয়েছে। তাই অন্য কোনো সংস্থার পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চায় না সরকার।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা কারও পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চাই না। এটা তাদের হিসাবে তারা দিয়েছে। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি, তারা তাদের মতো করছে। আমরা আমাদের মতো লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কতটা অর্জিত হলো, সেটি সময়ই বলে দেবে।’

বাজেটে নির্ধারিত মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা ব্যক্ত করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাজেটে যেসব প্রক্ষেপণ দেওয়া হয়েছে, সরকার সেগুলো পূরণ করতে পারবে বলে আশা করছে। কতটা অর্জিত হলো, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক দেখে তার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে।

এদিকে গতকাল ব্যাংককে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা চেয়েছেন। অন্যদিকে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া সংকট কাটিয়ে পুনরুদ্ধার ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে সংস্থাটি।

আমির খসরু বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়ের চাপের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অস্থিরতাও সামাল দিতে হচ্ছে। দেশের পরিস্থিতি ও এসব চ্যালেঞ্জ বিশ্বব্যাংক বুঝতে পারছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার যেসব নীতি নিয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে সংস্থাটির সমর্থন রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে বিশ্বব্যাংক আগ্রহী। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য সরকারের নেওয়া কর্মসূচি ও উন্নয়নের পথনকশার সঙ্গেও সংস্থাটি একমত হয়েছে। এসব বিষয়ে দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, যেসব বিষয়ে আলোচনা ও সমাধান প্রয়োজন, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে। বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থন দিতে বিশ্বব্যাংক প্রস্তুত রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত খবরের ব্যাপারে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো পরবর্তী সময়ে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস লাগতে পারে।

অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ব্যাংককে চলমান আলোচনায় এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। এসব আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে করণীয় ঠিক করতে ফলোআপ হবে। প্রক্রিয়াটি কয়েক মাস ধরে চলবে।