হোম > অর্থনীতি

বিবিএসের ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহার জরিপ’

নিজস্ব মোবাইল ফোন আছে ৬৬ শতাংশ মানুষের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ছবি: এআই

দেশে বিভিন্ন বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে মোবাইল ফোনের ব্যবহার দিন দিন বাড়লেও সবাই এখনো এর মালিক হতে পারেনি। পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে দৈনন্দিন জীবনে সব কর্মকাণ্ডেই এর গুরুত্ব বেড়েছে। এমনকি ৫ বছরের শিশুর কাছেও মোবাইল এখন নিত্যসঙ্গী। একাকিত্বের কারণে বয়স্কদের মধ্যেও বেড়েছে মোবাইল হাতে সময় কাটানোর প্রবণতা। সব মিলিয়ে দেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর হার বেড়ে ইতিমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। কিন্তু নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে ৬৬ শতাংশ মানুষের।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহার জরিপ ২০২৫-২৬’-এর চতুর্থ প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন ২০২৬) প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সংশ্লিষ্ট সূচক হিসেবেও এসব তথ্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে অবশ্য মোবাইল ফোন ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজের মোবাইল ফোন আছে, এমন মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তথ্যমতে, গত এক বছরে দেশে এর ব্যবহার হার ১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মোবাইলের মালিকানার হার ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ৮৮ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এ হার বেড়ে হয়েছে ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ এখন ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৯০ জনই মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। একইভাবে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৬৬ জনের নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে। এমন মানুষের হার ৬৪ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে আবার প্রতি পরিবারে স্মার্টফোনের ব্যবহারও বেড়েছে। আগের ৭৪ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে এই সময়ে ৭৫ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। চার পরিবারের তিনটিতেই সদস্যের হাতে এখন স্মার্টফোন উঠেছে। কিন্তু কমেছে ল্যান্ডফোন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসেবে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার থেকে এর ব্যবহার কমে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে।

অন্যদিকে ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচ বছর ও তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। আগের বছরের ৫৫ শতাংশ ব্যবহারকারী এখন বেড়ে হয়েছে ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ।

তবে পরিবারগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার আগের ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ৫৮ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ খানাভিত্তিক ইন্টারনেট সুবিধার হার এক বছরে ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এর বিপরীতে একই সময়ে দেশে কম্পিউটার ব্যবহার নামমাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বাড়লেও খানা পর্যায়ে কম্পিউটারের উপস্থিতি কমেছে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।

এ ছাড়া সবশেষ জরিপে দেশে ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ খানায় বিদ্যুৎ-সংযোগ, ৬০ দশমিক ১ শতাংশ খানায় টেলিভিশন এবং ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ খানায় রেডিও থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবিএস ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে মাঠপর্যায়ে কম্পিউটারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি (সিএপিআই) ব্যবহার করা হয়েছে। জরিপে ৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী মানুষের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে।