দেশের ব্যাংকিং খাতে যখন নানা অনিশ্চয়তা আর আস্থার সংকট, ঠিক সেই সময়ে অভাবনীয় সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)। নানা বাধা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০২৫ সালে ব্যাংকটি যে রেকর্ড মুনাফা ও প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, তা উদ্যাপনে আয়োজিত হলো ‘ইউসিবি নাইট–দ্য বিগিনিং অব এ নিউ এরা’।
গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী, নীতিনির্ধারক ও গ্রাহকেরা।
অনুষ্ঠানে ব্যাংকটির গত এক বছরের বাস্তব সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের চমকে দিয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে আমানত বৃদ্ধি ছিল ৪ হাজার ৮২ কোটি টাকা, ২০২৫ সালে তা অভাবনীয়ভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকায়। এটি ব্যাংকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।
ইউসিবির ওপর গ্রাহক আস্থা যে কতটা বেড়েছে তার প্রমাণ মেলে সংখ্যার হিসেবে। ২০২৪ সালে ৪ দশমিক ১১ লাখ নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও ২০২৫ সালে ৬ দশমিক ৭৮ লাখ নতুন গ্রাহক ব্যাংকটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
অ্যাডভান্স টু ডিপোজিট রেশিও ৯১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮৩ দশমিক শূন্য শতাংশে নামিয়ে এনেছে ইউসিবি, যা ব্যাংকটির তারল্য-সংকট কাটিয়ে ওঠার জোরালো প্রমাণ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ইউসিবি ভিসা ইনফিনিট কার্ড’ ও ‘ইউসিবি মাস্টার কার্ড ওয়ার্ল্ড এলিট’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। প্রিমিয়াম ব্যাংকিং সেবার এই নতুন সংযোজন গ্রাহকদের আধুনিক অভিজ্ঞতা দেবে বলে মনে করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহীর তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘চার দশক ধরে আমরা যা তৈরি করেছি, ইনশা আল্লাহ, আপনাদের সমর্থনে আগামী চার বছরে তার চেয়েও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারব।’
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার এখন স্পষ্ট—প্রথমে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, এরপর গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখা এবং পরিশেষে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করা।’
আলোর ঝলকানি আর সাংস্কৃতিক আয়োজনে ভরপুর এই সন্ধ্যায় সংগীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় শিল্পী হাবিব ওয়াহিদ, প্রীতম হাসান ও দোলা। তবে অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা। তাঁর জাদুকরি কণ্ঠের সুরের মূর্ছনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত শত শত অতিথি।
উত্তরা থেকে আসা এক চিকিৎসক দম্পতি জানান, ইউসিবির ওপর তাঁদের দীর্ঘদিনের আস্থা এই রেকর্ড সাফল্যে আরও দৃঢ় হয়েছে।