অনুমোদন ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা করা ২২টি অনলাইন পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কোনো ধরনের লেনদেন না করতে সবাইকে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যক্রম বন্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন বিভাগ এসব প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করেছে। এ বিষয়ে গতকাল রোববার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওয়েবসাইট বন্ধ ও গুগল প্লে স্টোর থেকে সংশ্লিষ্ট অ্যাপ সরিয়ে নিতে বিটিআরসিকে অনুরোধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি পেমেন্ট সেবা দিলে তা ‘পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪’ অনুযায়ী অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
শনাক্ত হওয়া ২২ প্ল্যাটফর্ম হলো—বহুদুরপে, জিনিপে, পেটিলার, বেঙ্গলিপে, পেওরা বিডি, সহজপে বিডি, ইজিপেওয়ে, একে পে, বিডি পে, সাজগারপে, আস্থাপে/সিপে, উদ্যোক্তাপে, ওয়ালেটমিক্স, বিটিটিপে, ইজি পে অটোমেশন, ইউনিকপে বিডি, বিডি অটো পে, আরএইচ পে বিডি, ইজিপে, অটোপে লিমিটেড, বিশ্বস্ত ও পিপ্রাপে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ২২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্তত ১৯টির ওয়েবসাইটে বিকাশ, নগদ, রকেট, বাংলা কিউআর ও বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের সুবিধা দেওয়া হচ্ছিল।
পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর হলো এমন প্রতিষ্ঠান, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা একটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভিন্ন মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট নিতে পারেন। তবে লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত নজরদারির বাইরে থাকায় গ্রাহকের অর্থ ও তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে তালিকাভুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠান যথাযথ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে ব্যক্তিগত এমএফএস নম্বর ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। কিছু প্ল্যাটফর্ম ভার্চুয়াল মুদ্রা লেনদেনে সহায়তা করছে এবং কয়েকটির বিরুদ্ধে জুয়াসহ অবৈধ কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, অননুমোদিত এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে গ্রাহকদের এর আগেও সতর্ক করা হয়েছে। কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংক চায় না কোনো গ্রাহক প্রতারিত হোক। তাই কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও আইনি ঝুঁকি এড়াতে লাইসেন্সবিহীন এসব প্ল্যাটফর্মে লেনদেন না করার জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কেউ প্রতারিত হলে বাংলাদেশ ব্যাংক তার দায় নেবে না।