হোম > অর্থনীতি

প্রাক্-বাজেট আলোচনা: বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে মিলবে সর্বোচ্চ করছাড়

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

সরকার পরিবহন খাত সামনে রেখে আসন্ন বাজেটে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষ করে গণপরিবহনে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি নতুন যানবাহন রাস্তায় নামাতে শুল্ক ও করকাঠামোয় সমন্বয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

গতকাল মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে পরিবহন খাতের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে প্রাক্‌-বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, রাস্তায় নতুন গাড়ি আসুক। পাশাপাশি দেশে গণপরিবহনে জ্বালানিরও সাশ্রয় হোক। এ লক্ষ্যে এবারের বাজেটে পরিবহন খাত সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। প্রথম ধাপ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক স্কুলবাস আমদানিতে শুল্ক শূন্যে নামানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আসন্ন জাতীয় বাজেটের জন্য অপেক্ষা না করেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। আর বাকি বিষয়গুলো বাজেট পদক্ষেপে সমন্বয় করা হবে। অংশীজনদের প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাসও দেন তিনি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া সংগঠনগুলো তাদের নিজ নিজ খাতের সংকট ও দাবিদাওয়া তুলে ধরে। বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা) জানায়, গাড়ির নিবন্ধন কমে যাওয়ায় বাজারে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সম্পূরক শুল্ক কমানোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে পিকআপ, মাইক্রোবাস ও বাস আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে গণপরিবহন খাতকে গতিশীল করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

জ্বালানি খাতে চাপের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যান্ড এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিডিডিএএ) তেল পরিবহনের ট্যাংকলরি আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানায়। অন্যদিকে মোটরসাইকেলে সিএনজি ব্যবহারের প্রস্তাব এলেও এনবিআর চেয়ারম্যান তা বাস্তবসম্মত নয় বলে ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে, ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

এভিয়েশন খাতের প্রতিনিধিরা কর কাঠামোকে বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরেন। এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি) জানায়, জেট ফুয়েলের ওপর কর ১৮ থেকে বেড়ে ৪২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি হেলিকপ্টার আমদানিতে কর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৭.২৫ শতাংশ করায় বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। এওএবির মহাসচিব মফিজুর রহমান বলেন, ‘৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের একটি হেলিকপ্টারে এত কর আরোপ হলে কেউ আগ্রহী হয় না।’ তিনি করহার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

এদিকে, পরিবেশবান্ধব যানবাহন প্রসারে প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িকে বৈদ্যুতিক গাড়ির সমতুল্য সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেয় বারভিডা। সংগঠনটির মতে, জ্বালানি সংকট ও পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এসব দাবির বিপরীতে রাজস্ব বাস্তবতা তুলে ধরেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ কোটি টাকায় নিতে হবে। ‘এত বড় লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কঠোর পদক্ষেপের বিকল্প নেই।’ কাস্টমস ডিউটি ৫ শতাংশের নিচে নামানো কার্যত শূন্যে নামিয়ে আনার শামিল বলেও উল্লেখ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

একই সঙ্গে কর ব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলোও স্বীকার করেন মো. আবদুর রহমান খান। দীর্ঘদিন ভ্যাট রিফান্ড না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি অনিয়মের পর্যায়ে চলে গেছে। পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে না আসা পর্যন্ত এ সমস্যা পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। কর ফাঁকি রোধ এবং রিফান্ড ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।