ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি গতিশীল করতে হলে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করে চাঁদাবাজি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। অন্যথায় ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
এ ছাড়া আরও তিনটি সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছে বাণিজ্যিক সংগঠনটি। সেগুলো হলো—সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করা, যারা ইচ্ছাকৃত খেলাপি নয় তাদের মূলধন সরবরাহ করে নতুন করে ব্যবসার সুযোগ দিতে হবে এবং ব্যাংক ঋণের সুদ হার যৌক্তিক পর্যায় নিয়ে আসতে হবে।
আজ সোমবার ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবগঠিত সরকারের কাছে ঢাকা চেম্বারের প্রত্যাশাবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতি ও ব্যবসার সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের রক্তে রক্তে চাঁদাবাজি ঢুকে গেছে। ফ্যাক্টরিতে ট্রাক ঢুকতে চাঁদা দিতে হয় আবার বের হতেও চাঁদা দিতে হয়। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে মানুষ এখন রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছে।’
তাসকিন আহমেদ আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের আগস্টের পরও দেশে আওয়ামী সরকারের সময়ের মতোই দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতি একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে বেড়েছে। পুলিশ, প্রশাসন, ইনকাম ট্যাক্স অফিস সব জায়গায় দুর্নীতি ছেয়ে আছে। এগুলো বন্ধ না হলে অর্থনীতি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। আর চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির কি হবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করার দাবিও জানান ডিসিসিআই সভাপতি। চুক্তিতে থাকা দেশের স্বার্থবিরোধী বিষয়গুলো বাতিলের দাবিও জানান তিনি। এ ছাড়া রপ্তানির জন্য চামড়া ও হালকা প্রকৌশলীসহ ৩০টি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নের কথা বলেন ডিসিসিআই সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআইর অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।