বাজারে অক্সিজেন সিলিন্ডার, পালস অক্সিমিটার, মাস্ক, হ্যান্ড গ্লভস ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিপি) চাহিদা বেড়েছে।
তবে এর মধ্যে অস্বাভাবিক বেড়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম। প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে গুরুতর কোভিড রোগীর জন্য অত্যন্ত জরুরি এ চিকিৎসা সামগ্রীটি।
আমদানিকারক ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পালস অক্সিমিটার, হ্যান্ড গ্লভস, মাস্কের সংকটও দেখা দিয়েছে। ফলে দামও বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
পুরনো ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকার সার্জ্যিক্যাল সামগ্রীর ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন জানান, বাজারে আগে প্রতিটি পালস অক্সিমিটারের মূল্য ছিল ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। আজ রোববার তা ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতিটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের মূল্য ছিল ৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার টাকা। সেটি বিক্রি হয়েছে ১০ হাজার ৫০০ থেকে ১১ হাজার টাকা।
লকডাউনের খবর প্রকাশের পরপরই করোনা সুরক্ষা ও চিকিৎসা সামগ্রীর দাম বাড়তে শুরু করেছে বলে জানান একই এলাকার মেসার্স হেলথওয়ের স্বত্বাধিকারী নূর হোসেন।
নূর হোসেন জানান, পালস অক্সিমিটার, অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং মাস্কের চাহিদা বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এ কারণে এসব পণ্যের দামও বেড়েছে। আগে প্রতিটি দেশি ৫০টি সার্জিক্যাল মাস্কের দাম ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়। আগে চীনা প্রতি ৫০টি সার্জিক্যাল মাস্কের দাম ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। তা ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ৪৮০ থেকে ৪৯০ টাকার ১০০টি হ্যান্ড গ্লভসের দাম বেড়ে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বাজারে মাস্কের দাম বাড়লেও কোনো ওষুধের বাড়বে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ওষুধ ব্যবসায়ী সম্মিলিত পরিষদের সদস্যসচিব জাকির হোসেন রনি। তিনি জানান, সব ধরনের ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।
লকডাউনের খবরে মাস্কের চাহিদা বাড়লেও বাবুবাজার ব্রিজের নিচের অস্থায়ী মার্কেটের মতো এলাকগুলোতেই শুধু ক্রেতা ভিড় দেখা যাচ্ছে। মার্কেটগুলোতে কিন্তু ক্রেতাদের তেমন ভিড় নেই। আমদানি করা মাস্কের দাম বাড়েনি। বাজারে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লভস, পিপিই ও অন্যান্য সামগ্রী পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এমন দাবি করেছেন বাংলাদেশ সাজ্যিক্যাল ইনস্টুমেন্ট অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাভেদ আহমেদ।