হোম > অর্থনীতি

বিমা কোম্পানির নথি-সম্পদ : তল্লাশি ও জব্দের ক্ষমতা পাচ্ছে আইডিআরএ

মাহফুজুল ইসলাম, ঢাকা

বিমা খাতে অনিয়ম ও জালিয়াতি দমনে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় ধরনের সংশোধন আনা হচ্ছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মাধ্যমে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) প্রথমবারের মতো বিমা কোম্পানির নথি তল্লাশি ও সম্পদ জব্দ করার ক্ষমতা পেতে যাচ্ছে। সংশোধিত বীমা আইন, ২০১০-এর খসড়া ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা হয়েছে; সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

খসড়া অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে অনিয়ম, জাল দাবি, বেআইনি কমিশন, অতিরিক্ত বা কম অর্থে দাবি নিষ্পত্তি কিংবা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে আইডিআরএ সরাসরি অনুসন্ধান চালাতে পারবে। চেয়ারম্যানের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তিসংগত সন্দেহ তৈরি হলে তিনি অনুমোদিত কর্মকর্তাকে তল্লাশি ও জব্দের নির্দেশ দিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রয়োজনে ভবনে প্রবেশ, লকার বা আলমারি ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ নথি জব্দ, সেগুলোর অনুলিপি তৈরি এবং প্রয়োজন হলে পুলিশি সহায়তা নিতে পারবেন; পুলিশের জন্য এ সহায়তা দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে।

নতুন বিধানে বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে অস্বীকৃতি জানালে, তথ্য গোপন করলে বা সহযোগিতা না করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এমনকি সরাসরি জব্দ সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নথি স্থানান্তর, বিক্রি বা ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হবে। অনুসন্ধানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শপথের অধীনে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে এবং সেই বক্তব্য আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।

আইনে স্পষ্ট করা হয়েছে, জব্দ করা নথি সাধারণত ১৮০ দিনের বেশি রাখা যাবে না। তদন্ত শেষ হলে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে তা ফেরত দিতে হবে। যাঁর নথি বা সম্পদ জব্দ হবে, তিনি সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগ পাবেন—এ বিধানও যুক্ত করা হয়েছে, যাতে ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকানো যায়।

সংশোধনীতে আরও বলা হয়েছে, বিমা কোম্পানির অর্থায়নে গঠিত বা পরিচালিত যেকোনো প্রতিষ্ঠান, ফাউন্ডেশন বা সহযোগী সংস্থাও আইডিআরএর তদারকির আওতায় আসবে। এসব প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন চালিয়ে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিমা কোম্পানির সঙ্গে লেনদেন রয়েছে, এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হিসাবপত্র ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহের বিশেষ ক্ষমতাও পাবে আইডিআরএ; প্রয়োজন হলে অন্য সরকারি সংস্থার সহায়তায় এসব তথ্য নেওয়া যাবে।

আইডিআরএর চেয়ারম্যান ড. আসলাম আলম জানিয়েছেন, খসড়া আইনের ওপর সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়েছে এবং এখন বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর মতে, এসব সংস্কারের মূল লক্ষ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও গ্রাহকের অর্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

তবে ভিন্নমতও রয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের কয়েকজন পরিচালক মনে করছেন, জব্দের মতো ক্ষমতা ব্যবসায়িক পরিবেশে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। সংগঠনটির পরিচালক এস এম নূরুজ্জামান বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা হওয়া দরকার। তড়িঘড়ি না করাই ভালো।

বিমা বিশ্লেষক ও সাবেক সিইও এস এম জিয়াউল হক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ক্ষমতার অপব্যবহার হলে তা দেশের কাজে না এসে কিছু ব্যক্তির স্বার্থে ব্যবহৃত হতে পারে।

অন্যদিকে বিমা গ্রাহক সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, বছরের পর বছর দাবি আদায়ে ঘুরতে হয়; নিয়ন্ত্রক সংস্থা শক্ত হলে ভোগান্তি কমবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুসন্ধান ও জব্দের ক্ষমতা প্রয়োগে স্পষ্ট গাইডলাইন, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে সংবিধান ও মানবাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক হাসিনা শেখের ভাষ্য, নিয়ন্ত্রক সংস্থা শক্ত হওয়া প্রয়োজন, তবে তার সৎ ও ন্যায়সংগত প্রয়োগই হবে আসল চ্যালেঞ্জ।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৭৮ বিলিয়ন ডলার, দুদিনে বেড়েছে ২৫ কোটি

রমজান উপলক্ষে ৬৫০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি শুরু

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির ৯১৩তম সভা অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংকের মাসব্যাপী ক্যাম্পেইন শুরু

এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বেলিসিমো নিয়ে এল নতুন আইসক্রিম রোটনডো

ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৬ দিনে এল ১৮০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স, রিজার্ভ ছাড়াল ৩৪.৫ বিলিয়ন

ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে কতটা চাপে ফেলবে

সোনার দাম আরও কমল

বারবার হোঁচটের পর নতুন লক্ষ্য সংযম