হোম > অর্থনীতি

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের অবস্থা: বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে বড় লোকসান, লাভে বিএসইসি

তানিম আহমেদ, ঢাকা 

শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগ বড় ধরনের লোকসানে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) করোত্তর ক্ষতি হয়েছে ৪৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সার্বিক নিট ক্ষতি হয়েছে ৩০০ কোটি ১১ লাখ টাকা। তবে বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (বিএসইসি) লাভে রয়েছে।

গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত শিল্প মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যপত্র সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিটি কলকারখানার বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণী উপস্থাপন করা হয়।

জানতে চাইলে কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আমাদের জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর থেকে বেশির ভাগ সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান লোকসানের বোঝা বয়ে আসছে। একদিকে লোকসানের বোঝা, অন্যদিকে ব্যাংকঋণ—এভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো চালিয়ে গেলে আগামী ৫০ বছরেও সুফল পাওয়া যাবে না। তাই প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে বাঁচিয়ে রাখা যায়, কিংবা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এ বিষয়ে আগামী বৈঠকে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অডিট চলমান হিসাব অনুযায়ী, চালু ৯টি চিনিকলের মোট আয় ১ হাজার ১৯৬ কোটি ৮৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং ব্যয় ১ হাজার ৪২১ কোটি ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এসব চিনিকলের করপূর্ব ক্ষতি ২৯৫ কোটি ৭৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং করোত্তর ক্ষতি ৩৪৬ কোটি ২৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। চিনিকলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে বিএসএফআইসির মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ২২২ কোটি ৭৪ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৫৭৬ কোটি ৭৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এতে করোত্তর মোট ক্ষতি হয়েছে ৪৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।

অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিসিআইসির লোকসান হয়েছে ৩০০ কোটি ১১ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের লোকসান ৭৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

তবে বিএসইসির হিসাবে লাভের চিত্র পাওয়া গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অডিট চলমান হিসাব অনুযায়ী এই সংস্থার মোট আয় ৭১১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং ব্যয় ৬৬৬ কোটি ৭৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এতে করপূর্ব লাভ হয়েছে ৪৫ কোটি ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা।