ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে এক কলেজছাত্রীকে (১৭) অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। মেয়েকে না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে পরিবার। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভারতে যাতায়াতের তথ্য থাকায় মেয়েটিকে সীমান্ত দিয়ে পাচার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বজনেরা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে প্রতিবেশী রমিক চন্দ্র সিংহ (২৩) মোবাইল ফোনে ওই কলেজছাত্রীকে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। পরে তাকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি।
ঘটনার দুই দিন পর ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে রমিক চন্দ্র সিংহ, তাঁর বাবা গ্রাম পুলিশ সদস্য সুমন্ত চন্দ্র সিংহসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বালিয়াডাঙ্গী থানায় অপহরণ মামলা করেন। তবে মামলা হওয়ার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও ওই ছাত্রীকে উদ্ধার কিংবা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘প্রধান আসামির বাবা এলাকায় ছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলে আমার মেয়েকে উদ্ধারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেত। শুরুতে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। এখন কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না। আমি যেকোনো মূল্যে আমার মেয়েকে ফিরে পেতে চাই।’
স্বজনদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কয়েকজনের ভারতে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। ওই ছাত্রীকে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্বে আছেন অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ সদস্য সুমন্ত চন্দ্র সিংহের বোন বৈশ্বানী রানী। তিনি বলেন, ‘মায়া ধরে (মেয়ে নিয়ে) রমিক পালাইছে। এর পর থেকে ওর বাবাও নাই। মুই বাড়ি পাহারা দিছু। আর কিছু কহিবা পারু না (বলতে পারব না)।’
ওই ছাত্রীর মা মেয়ের নিখোঁজের পর থেকে খাওয়াদাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় পরিবারের সদস্যরা উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবার দেরিতে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছে। আমরা অপহরণ মামলা নিয়েছি। মোবাইল ফোনের লোকেশন শনাক্ত করে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’ তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে কেউ নিখোঁজ কলেজছাত্রীকে শনাক্ত করতে পারলে পুলিশকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।