সিলেটে আগামী সোমবার থেকে টিকিটের নামের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নামের অমিল থাকলে ট্রেনে ভ্রমণ করতে দেওয়া হবে না। টিকিট কালোবাজারি রোধে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। চারজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ট্রেনের টিকিটে অনিয়ম ও অসংগতি পাওয়া যায়। প্রথম দিন বিবেচনায় কাউকে জরিমানা বা শাস্তি দেওয়া হয়নি।
অভিযান শেষে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কিছু যাত্রীর টিকিটের সঙ্গে এনআইডির নামের মিল পাওয়া যায়নি। এ জন্য তিন থেকে চার দিন সময় দেওয়া হচ্ছে। আগামী সোমবার থেকে কঠোর অভিযান শুরু হবে। স্টেশনে নিয়মিত ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন এবং তিনি নিজেও টিকিট যাচাই করবেন।
অভিযানে দেখা যায়, কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীর প্রকৃত নামের সঙ্গে অনলাইনে কাটা টিকিটের নামের মিল নেই। ট্রেন ভ্রমণকে কালোবাজারিমুক্ত করা এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এর আগে গত বছরের অক্টোবরে সিলেটের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতিবিদ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের এক জরুরি বৈঠকে নিজ নামে টিকিট ছাড়া ট্রেনে ভ্রমণ করা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগে এরপর টিকিট কালোবাজারি রোধে নজরদারি শুরু হয়। তবে কিছুদিন পর সেই তৎপরতা থেমে যায়। পরে আবারও টিকিট নিয়ে নানা অভিযোগ উঠতে থাকে।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ঢাকা-সিলেট সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনলাইনে টিকিট ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়, যার বড় অংশ কালোবাজারিরা কিনে নেয়।
টিকিটের সংকট ও যাত্রীদের ভোগান্তির মধ্যে সম্প্রতি এ বিষয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান। টিকিট সংকটের পেছনে কালোবাজারি ও মজুদদারির সুনির্দিষ্ট আলামত পাওয়ার পর তিনি মামলাটি করেন। এর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।
এ মামলার পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন।