কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির দাবিতে প্রায় ৩৪ ঘণ্টা ধরে অধ্যক্ষসহ ১৪ শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে ১৪ শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে তাঁরা এ কর্মসূচি শুরু করেন। আজ সোমবার সন্ধ্যা ৯টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কর্মসূচি চলছে এবং শিক্ষকেরাও অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। এরই মধ্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও সিসিক প্রশাসকের সঙ্গে তাদের প্রতিনিধি দলের বৈঠক এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও এর কোনো সমাধান আসেনি। আর এদিন নতুন অধ্যক্ষ যোগ দিতে গেলেও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত স্নাতক পর্যায়ের এই প্রকৌশল কলেজের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগ, পুরকৌশল বিভাগ এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের পাঁচটি ব্যাচে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী আছেন। এর মধ্যে প্রায় সব শিক্ষার্থীই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় তাদের বিএসসি প্রকৌশল ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা কলেজ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবর্তে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ডের (মাউশি) অধিভুক্ত হওয়ার দাবি তুলেছেন। তবে কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পাওয়ায় ক্ষোভ জমেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এ কারণে তারা গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে কলেজের অধ্যক্ষসহ ১৪ জন শিক্ষককে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পরে সোমবার বিকেল ৪টার দিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে বৈঠক করেন ১০ সদস্যের শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল। এতে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও অংশ নেন।
এদিকে, আন্দোলনের মধ্যেই রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়। একই আদেশে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। সোমবারের মধ্যে উভয়কে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
সোমবার দুপুরে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য এসেছিলেন নতুন অধ্যক্ষ। কিন্তু, শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। আর সদ্য বদলি হওয়া অধ্যক্ষ রিলিজ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে থাকা চতুর্থ বর্ষের একজন শিক্ষার্থী বলেন, উনারা এটিকে বিশ্ববিদ্যালয় করার আশ্বাস দিয়েছেন। যেটা আমাদের আগেও দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকবার। কিন্তু, আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। শিক্ষকরা এখনো অবরুদ্ধ আছেন। আর নতুন অধ্যক্ষ আজকে আসছিলেন, আমরা ক্যাম্পাসে ঢুকতে দিইনি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এরকমই থাকবে। আমাদের দাবি আদায় হয়ে গেলে আমরা সুন্দরভাবে সবকিছু ছেড়ে দেব।
এ ব্যাপারে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমি আজ সকালেই স্ট্যান্ড রিলিজ নিয়ে নিয়েছি। কিন্তু, এখানে থেকে এখনো বের হতে পারিনি। শিক্ষার্থীরা আমাদের এখনো অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বৈঠকে বা আমরা সেখানে গিয়েও কোনো সমাধান আসেনি। তাদের মূল দাবি আমাদের কাছে মনে হয়েছে প্রিন্সিপালের ট্রান্সফারটা বাতিল করা। তাদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দুটি আলাদাভাবে চলছে। একদিনে এগুলোর সমাধান সম্ভব না। তারা স্বতন্ত্র ইনস্টিটিউট হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে থাকবে। তো এটা একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। আমরা বলছি যে এটাতে কিছুদিন সময় লাগবে। আমাদের কাছে যে স্মারকলিপিটা দিয়েছে, এটা আমি আবার ফরওয়ার্ড করে দেব আজকে। তাদের দাবি অনেক। একটা হচ্ছে স্বতন্ত্র ইনস্টিটিউট করা আর দ্বিতীয় হচ্ছে প্রিন্সিপালের ট্রান্সফার বাতিল। আর ডিপ্লোমা করা ২ জন শিক্ষকের ট্রান্সফার বাতিল করা। আমরা যেটা বলছি, এগুলোতে তো সময় লাগবে। আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাব। তারা চাচ্ছে ইনস্ট্যান্ট। ইনস্ট্যান্ট সমাধান তো আমরা চাইলেই দিতে পারব না। প্রজ্ঞাপন বাতিল করার ক্ষমতা তো আর আমার হাতে নেই। আমি জানানো ছাড়া তো আমার আর কিছু করার থাকে না।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, তাদের অনেক দাবি। তারা চাইছে সব দাবি একদিনে পূরণ করে দিতে। একদিনে তো আর সব পূরণ হয় না।