হোম > সারা দেশ > সিলেট

মন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার, রোববার ক্লাসে ফিরছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা

সিলেট প্রতিনিধি

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। ছবি: আজকের পত্রিকা

শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করে শ্রেণিকক্ষে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। টানা ১৩ দিনের আন্দোলনের পর আগামীকাল রোববার (১১ অক্টোবর) থেকে কলেজের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।

শুক্রবার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মন্ত্রীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন মন্ত্রী এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) বিভাগের অধীনে স্থানান্তর, প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং খেলার মাঠ নির্মাণ।

শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, কলেজটিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীনে স্থানান্তরের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিকে ‘সিলেট প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’-এ রূপান্তরের প্রক্রিয়া আগামী আনুমানিক আট মাসের মধ্যে এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। বর্তমান চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পাস করে বের হওয়ার আগেই এ বিষয়ে অগ্রগতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষকসংকটসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

সভায় উপস্থিত সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী কলেজে একটি খেলার মাঠ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। মন্ত্রী আগামী রোববার (১৮ অক্টোবর) সরেজমিনে কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শন করবেন বলেও জানান।

মন্ত্রীর আশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তাঁদের প্রত্যাশা, দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দাবিগুলো পূরণ হবে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গোপনীয় শাখা এবং সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, সিলেট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মো. সাহিদ ইকবাল, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং শিক্ষার্থীদের ১০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. তানভীর মাহমুদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় আমাদের সব দাবি মেনে নিয়ে তা পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। আগামী ১৮ অক্টোবর ক্যাম্পাস পরিদর্শনে আসবেন বলেও জানিয়েছেন। তাঁর আশ্বাসে আমরা আগামীকাল থেকে ক্লাসে ফিরছি।’

কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মো. সাহিদ ইকবাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গতকালের সভায় শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফেরার কথা জানিয়েছেন। আগামীকাল থেকে আমরাও দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করব। আজ ক্যাম্পাসের সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে।’

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো আমলে নেওয়া হয়েছে। এটি একটি প্রক্রিয়াধীন বিষয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগে। মন্ত্রী মহোদয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথা বলেছেন। বিশেষ করে বর্তমান চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার আগেই যাতে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যায়, সে বিষয়ে তিনি সচেষ্ট রয়েছেন। আগামী রোববার মন্ত্রী নিজেই কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শনে যাবেন।’

সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকায় ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কার্যক্রম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়া অথবা প্রতিষ্ঠানটিকে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন বেলা ১১টার দিকে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অধ্যক্ষসহ ১৪ শিক্ষককে টানা ৩৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা।

২৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে তৎকালীন অধ্যক্ষকে বদলি করে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয় সরকার। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নতুন অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেননি। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের ১৩তম দিনে মন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় সভার পর আন্দোলন প্রত্যাহার করেন তাঁরা। রোববার নতুন অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।