সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী রেলের টিকিট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছাড়ার কিছু সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এ কারণে যাত্রার ১০ দিন আগে টিকিট ছাড়ার সময়ে অনলাইনে প্রবেশ করলেও টিকিট পাওয়া যায় না। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সিলেটবাসীর মনে অসন্তোষ ও ক্ষোভ রয়েছে। টিকিট উধাওয়ের বিষয়টি নিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বপ্রণোদিত হয়ে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আমলি-১১ মামলা করেছেন। মামলা তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) ১ অক্টোবর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক আবদুল আহাদ।
আজ বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক আবদুল আহাদ বলেন, ‘আদালত মামলা তদন্তের নির্দেশ পিবিআইকে দিয়েছেন। আমি ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি। ফুল ডেটা নিয়ে কাজ করছি। এটিতে বিশাল সিন্ডিকেট জড়িত। আমরা চেষ্টা করছি, একেবারে মূল জায়গায় গিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে।’
জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকায় উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা, পারাবত এবং চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। সিলেট থেকে যাতায়াতকারী এসব ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কিনতে হয়। অধিকাংশ যাত্রী অনলাইনে গিয়ে টিকিট পান না। ফলে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তাঁরা টিকিট কেনেন।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে সব টিকিট বিক্রির বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নোটিশ করেন আদালত। রেলের ওয়েবসাইটে গিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে আদালত কয়েক মিনিটের মধ্যে ট্রেনের সব টিকিট বিক্রির বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
আদালত মনে করেন, ট্রেনের টিকিট বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে কারও কারও সহায়তায় কয়েকটি চক্র মুহূর্তেই ট্রেনের সব টিকিট কিনে নিয়ে বেশি মূল্যে যাত্রীদের কাছে বিক্রয় করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের হয়রানির পাশাপাশি পর্যটনশিল্পের বিকাশেও অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন আদালত। পরে গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বপ্রণোদিত হয়ে সিলেট আদালতে মামলা করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি এজাহারে কালোবাজারি ও মজুতদারির মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন।