সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা ২১ বছর বয়সী এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে এক ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে। আজ শনিবার ভোরে হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয়ের নাম করিম সরকার (২৯)। তিনি উপজেলার কর্ণসূতি গ্রামের আব্দুল কাদের সরকারের ছেলে এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ওই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ার্ড বয় হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হায়দারপুর গ্রামের ওই নারী গতকাল শুক্রবার বিকেলে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। শনিবার ভোরে অভিযুক্ত করিম নারীদের ওয়ার্ডে প্রবেশ করেন।
ভুক্তভোগী তরুণী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ওই ছেলে এসে আমার নাম-ঠিকানা জিজ্ঞেস করে এবং ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে কি না জানতে চায়। কথা বলতে বলতে সে আমার কপালে ও গলায় হাত দেয়। পরে পিঠে ও বুকে হাত দিয়ে বলে, “আপনার প্রচুর জ্বর।” তখন আমি চিৎকার করে আমার মাকে ডাকি। এরপর বিষয়টি দ্রুত ডিউটিরত নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। টের পেয়ে অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয় দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানায়, এর আগেও অভিযুক্ত করিমের বিরুদ্ধে এ ধরনের অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল, যা সে সময় স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল।
ঘটনার বিষয়ে হাসপাতালের অন্তর্বিভাগের ইনচার্জ ও জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স রূপালী খাতুন বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। ঘটনার পর আমরাও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমাদের নারী কর্মীদের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটতে পারত।’
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুল মুকিত বলেন, ‘ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযুক্ত করিম সরকার আত্মগোপনে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জরুরি মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।