সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলায় এখনো গ্রেপ্তার হননি অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয় করিম সরকার (২৯)। এদিকে ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো তদন্ত কমিটিও গঠন করেনি। তবে বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জনকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামলা হওয়ার পরও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার না করা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি গঠন না করা দায়িত্ব পালনে গড়িমসির শামিল। তাঁদের আশঙ্কা, অদৃশ্য কোনো প্রভাবের কারণে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে বিলম্ব হচ্ছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী নারীর বড় ভাই বলেন, ‘আমার বোন চিকিৎসা নিতে গিয়ে যে ঘটনার শিকার হয়েছে, তা খুবই বেদনাদায়ক। ঘটনার দিন ১০ অক্টোবর শনিবারই থানায় মামলা করেছি। কিন্তু এখনো পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, তা আমরা বুঝতে পারছি না। এর পেছনে কোনো অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে কি না, সেই প্রশ্নও আমাদের মনে এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার বোন গতকাল সোমবার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই। অভিযুক্তের শাস্তি দাবি করছি, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নারী চিকিৎসা নিতে এসে এমন ঘটনার শিকার না হন।’
কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমরা জেলা সিভিল সার্জন স্যারকে জানিয়েছি। অভিযুক্তকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চিঠিও দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা সিভিল সার্জন নুরুল আমীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। এটি এখন আদালতের বিষয়।’
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাশমত আলী বলেন, ‘মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
১০ অক্টোবর শনিবার ভোরে কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী ওয়ার্ডে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা ২১ বছর বয়সী এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে ওয়ার্ড বয় করিম সরকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়।
অভিযুক্ত করিম সরকার কামারখন্দ উপজেলার কর্ণসূতি গ্রামের আব্দুল কাদের সরকারের ছেলে। তিনি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ার্ড বয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন।