সকালে মারা গেলেন ছেলে। বুকভরা শোক নিয়ে ছেলের দাফন শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন মা। কিন্তু ছেলেকে শেষবিদায় জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনিও চলে গেলেন না-ফেরার দেশে।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধুবিল ইউনিয়নের বেতুয়া গ্রামে মা-ছেলের এমন মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরে একই কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে তাঁদের।
আজ মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে মারা যান সাইফুল সরকার (৫৯)। দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন তিনি। বেলা সোয়া ১টার দিকে বেতুয়া দক্ষিণপাড়া কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা যান তাঁর মা তারা বানু। বিকেল পাঁচটার দিকে একই কবরস্থানে তাঁকেও দাফন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাইফুল সরকার বেতুয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ সরকারের ছেলে। পরিবারে তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে ভিড় করেন। ছেলের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধা মা তারা বানু।
ছেলের দাফন সম্পন্ন হওয়ার কিছুক্ষণ পরই তাঁর মৃত্যুর খবর আসে। স্থানীয় লোকজনের ধারণা, ছেলেকে হারানোর শোক সইতে পারেননি তারা বানু। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ধুবিল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছানোয়ার হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাইফুল দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। দুপুরে তাঁকে দাফন করা হয়। এরপর বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁর মাকেও দাফন করা হয়েছে। দুজনকেই বেতুয়া দক্ষিণপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ভাষ্য অনুযায়ী, তারা বানুর বয়স ৮৫ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে। বয়স বেশি হলেও তিনি সুস্থ ছিলেন। ছেলের মৃত্যুর শোক থেকেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।