রবীন্দ্রসংগীতকে ব্যঙ্গ করে ‘রঠা সংগীত’ নামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। ভিডিওতে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে রবীন্দ্রসংগীত উপস্থাপন করেছেন। এ ছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যসাধনা নিয়েও কটাক্ষ করে আরও একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
গতকাল রোববার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এসব পোস্ট করেন আম্মার। তবে তাঁর দাবি, এগুলো ‘প্যারোডি’।
অভিযোগের বিষয়ে আম্মার বলেন, ‘আমি রবীন্দ্রসংগীত পারি, তাই পোস্ট করেছি। রবীন্দ্রসংগীতকে ব্যঙ্গ করে পোস্ট করব কেন? আমরা যখন থিয়েটার করতাম, তখন নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীতসহ বিভিন্ন গান নিয়ে প্যারোডি করতাম।’
অপর পোস্টটির বিষয়ে আম্মার জানান, রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি ও জীবনযাপন-সংক্রান্ত যে পোস্টটি ঘিরে আলোচনা হচ্ছে, সেটি মূলত তাঁর মেধার প্রশংসা করেই করেছেন তিনি। একজন মানুষের মস্তিষ্ক এতটা তীক্ষ্ণ হতে পারে, এটি সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁকে অ্যাপ্রিশিয়েট করেই পোস্টটি করা।
বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, আম্মার যে অভিযোগগুলো করছেন, সেগুলোর পেছনে কোনো প্রমাণ বা তথ্যসূত্র নেই। মনগড়া অভিযোগ তুলে বিভিন্নভাবে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রচণ্ড ঘৃণা ও সাম্প্রদায়িকতা লুকিয়ে আছে।
আম্মারের বিচার দাবি করে ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘এমন একজন ব্যক্তি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।’
আরও এক শিক্ষার্থী মাতিন আকন্দ বলেন, কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই একজন জিএসের এমন দাবি করা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।
আম্মারের এসব বিতর্কিত পোস্ট নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা তীব্র সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।