রমজান মাস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য গণ-ইফতারের আয়োজন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন। তবে আয়োজনের বাইরে রাখা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অমুসলিম শিক্ষার্থীদের। এমনকি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আগাম বার্তাও দেওয়া হয়নি। আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে ছেলে শিক্ষার্থী ও শহীদ মিনার চত্বরে মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য এই আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, ইফতারের অংশ হিসেবে গরুর মাংসের বিরিয়ানির ব্যবস্থা করা হয়। শিক্ষার্থীরা এই আয়োজনকে ক্যাম্পাসে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা বৃদ্ধির কথা বললেও অমুসলিম শিক্ষার্থীদের বাইরে রাখার বিষয়টিকে নিন্দা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। এ ছাড়া খাবারের মান নিয়েও অনেকে অভিযোগ করেছেন।
শহীদ শামসুজ্জোহা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী পুশরাম চন্দ্র বলেন, ‘আমাকে আমার কয়েকজন মুসলিম বন্ধু আজকে ইফতারে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। আমি একটা ব্যস্ততার জন্য শেষ সময়ে যেতে পারিনি। তবে এখন মনে হচ্ছে, না গিয়ে ভালোই করেছি! কেননা, প্রশাসন এই ইফতারে অমুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ব্যবস্থাই রাখেনি।’
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হলে সেখানে সকল শিক্ষার্থীর অধিকার আছে। আমরা একটা সম্প্রীতির বিশ্ববিদ্যালয় চাই। কিন্তু আজ প্রশাসনের আয়োজিত ইফতারে অমুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবস্থা না রাখাটা তাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে।’
অর্থের স্বচ্ছতা সম্পর্কে ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘আমরা বিগত সময়ে প্রশাসনের গণ-ইফতারের অর্থের উৎস নিয়ে সন্দিহান ছিলাম। পরে জানতে পেরেছি, সেটা একটা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনের ছিল। এবারও আমরা তাদের এই অর্থের উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাইনি। তবে জানার অধিকার আমাদের আছে।’
রাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মানে সবার। এখানে প্রশাসনের আয়োজন মানে সকল শিক্ষার্থীর জন্য আয়োজন। কিন্তু আজকে এখানে অমুসলিম শিক্ষার্থীদের বাইরে রাখার বিষয়টিকে আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ধিক্কার জানাই।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে বলেছিলাম, কিন্তু তারা সে বিষয়ে পরে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অনেক অমুসলিম শিক্ষার্থী আসছিল, যা খুবই খারাপ লাগছিল। এটা যেহেতু প্রশাসন ব্যবস্থা করেছে, সকল ব্যবস্থা তারাই করেছে, আমরা শুধু সহায়তাকারী হিসেবে ছিলাম।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের মুসলিমদের জন্য আয়োজন করেছি। সেখানে অমুসলিম কেউ থাকার কোনো সুযোগ নেই। সে জন্য অমুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। আবাসিক হলে ব্যবস্থা করা হলে তখন তাদের রাখা হবে।’