রাজশাহীর পবা উপজেলায় ‘মব’ তৈরি করে এক আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। পরে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আসামির কাছে চাবি পাঠিয়ে পুলিশ হাতকড়া উদ্ধার করেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ হাতকড়া উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করলেও আসামির কাছে চাবি পাঠানোর দাবি স্বীকার করছে না। আসামি ছিনতাইয়ের এই ঘটনায় পরে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। এই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন পবা থানা-পুলিশ উপজেলার পিল্লাপাড়া মোড়ে মো. রাসেল নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। পূর্বশত্রুতার জেরে আফসার আলী নামের এক ব্যক্তিকে মারধরের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ১৬ মার্চ ভুক্তভোগী ব্যক্তি বাদী হয়ে রাসেলের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২২ মার্চ সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পিল্লাপাড়া মোড়ের সাহিদা হক ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে রাসেলকে গ্রেপ্তার করে পবা থানা-পুলিশের আটজনের একটি দল। এ সময় আসামির মা, কয়েকজন আত্মীয় ও স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে ‘মব’ তৈরি করেন। তাঁরা হাতকড়া পরানো অবস্থায় আসামিকে ছিনিয়ে নেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাতকড়াটি পাওয়ার জন্য পুলিশ অস্থির হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যস্থতায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর হাতকড়াটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে হাতকড়ার চাবি দেয়। তাঁরা এলাকার একটি বিলের ভেতর গিয়ে আসামির কাছ থেকে হাতকড়া খুলে আনেন। পরে তাঁরা হাতকড়াটি পুলিশকে দেন বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
চাবি পাঠিয়ে আসামির কাছ থেকে হাতকড়া আনার বিষয়ে জানতে চাইলে পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি এখন পেট্রলপাম্পে আছি। খুব ঝামেলা। একসময় থানায় আসেন। তখন বলব।’
রাজশাহী নগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘পরে হ্যান্ডকাফ উদ্ধার হয়েছে। তবে চাবি পাঠিয়ে হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের বিষয়টি সঠিক না। আর আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এ মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’ গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে ছিনিয়ে নেওয়া আসামি রাসেল আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।