হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

রামেবির উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ

রাবি প্রতিনিধি  

ছবি : সংগৃহীত

আন্দোলনের চাপের মুখে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য জাওয়াদুল হক পদত্যাগ করেছেন। এ সময় উপাচার্যের সহযোগী পিএস সেকশন কর্মকর্তা নাজমুল হোসেনও পদত্যাগ করেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতার উপাচার্য ঘেরাও’ কর্মসূচি চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ছাত্র-জনতার ব্যানারে এই আন্দোলন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতার ব্যানারে শতাধিক বিক্ষুব্ধ মানুষ রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘উপাচার্য ঘেরাও’ কর্মসূচি শুরু করেন। একপর্যায়ে সেখান থেকে ২৫ থেকে ৩০ জন আন্দোলনকারী উপাচার্যের অফিসে ঢুকে পড়েন। তাঁরা রামেবির উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে ঘিরে ধরে পদত্যাগের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এ সময় একই অভিযোগে উপাচার্যের সহযোগী পিএস নাজমুল হোসেনও পদত্যাগ করেন।

এদিকে রামেবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় উপাচার্যের পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে অধ্যাপক জাওয়াদুল হক ক্যামেরার সামনে কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল আমার অফিসে এসে আমার মোবাইল কেড়ে নেয় এবং একটি কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করতে বলে। তাদের ভয়ে ও আত্মরক্ষার্থে আমি সেই কাগজে সই করতে বাধ্য হই। তবে সেই কাগজে কী লেখা ছিল, আমি তা পড়ার সাহস করিনি। পরে তারা আমাকে তাদের সঙ্গে করে নিয়ে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়। বিষয়টি আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তরে জানিয়েছি।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাজমুল হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে উপাচার্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ের একটি অনলাইন বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে একদল লোক মিছিল নিয়ে জোর করে কক্ষে প্রবেশ করে উপাচার্যকে গালিগালাজ করতে থাকেন। পরে আগে থেকে প্রস্তুত করা পদত্যাগপত্রে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর আমাকেও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়।’

নাজমুল আরও বলেন, ‘আমি এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে মারধর করে।’ তাঁর দাবি, পরে জোরপূর্বক তাঁর কাছ থেকেও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

এর আগে পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্য ঘেরাও কর্মসূচিতে আপামর ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে—দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ও আওয়ামী দোসর উপাচার্য জাওয়াদুল হককে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। তাঁর আমলের সব অবৈধ নিয়োগ বাতিল ও চলমান বিতর্কিত নিয়োগপ্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

অন্য দাবিগুলোর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছ, ভবন, সীমানাপ্রাচীরসহ সরকারি সম্পদ লুটপাটের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব টেন্ডার ও কেনাকাটার অনিয়ম ও দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং জাওয়াদুল হক ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা বিপুল সম্পদের উৎস ও বৈধতার বিষয়ে তদন্ত করতে হবে।