হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

মিথ্যা মামলা করায় বিএনপি নেতাকে জরিমানা, অর্থ পাবেন আসামি আ.লীগ নেতা-কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

প্রতীকী ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোট দিতে পারেননি, এমন অভিযোগে মিথ্যা মামলা করায় রাজশাহীর এক বিএনপি নেতাকে লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। এই মামলায় কারাভোগ করা দুজন আসামি জরিমানার এই অর্থ পাবেন। সাত দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে বাদীকে এক মাস কারাদণ্ডেরও আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক মো. সাদ্দাম হোসেন মামলার এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম সাজ্জাদ হোসেন (৪৬)। তিনি হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। বেলুয়া খোলাবোনা গ্রামে তার বাড়ি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন তিনি কারাগারে ছিলেন। অথচ সেদিন ভোট দিতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন দাবি করে মিথ্যা মামলা করেন।

গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের দামকুড়া থানায় মামলাটি করেন সাজ্জাদ হোসেন। মামলায় হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বজলে রেজভী আল হাসান মুঞ্জিল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান বাদলসহ দলটির ১৩ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছিল।

এজাহারে সাজ্জাদ হোসেন উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলাকালে ভোট দেওয়ার জন্য সাজ্জাদ হোসেন কসবা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে যান। এ সময় আসামিরা তাঁকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেন। এরপরও তিনি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে ইউপি চেয়ারম্যান বজলে রেজভী আল হাসান মুঞ্জিল পিস্তল দেখিয়ে তাঁকে গুলি করার হুমকি দেন এবং অন্য আসামিরা সাজ্জাদকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে রজব নামের এক ব্যক্তির বাড়ির সামনে পৌঁছালে আসামি বাবর আলী, মো. জাহাঙ্গীর, মো. সোহাগ ও মো. রাজিব তাঁদের হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে বাদীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। তখন গুলি তাঁর পাশ দিয়ে চলে যায়। আসামি বাদলসহ অন্যরা তাঁদের হাতে থাকা বাঁশের লাঠি, হাঁসুয়া ও পাসলি দিয়ে তাঁকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত জখম করেন। পরে তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাঁকে রক্ষা করে। এ সময় আসামিরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

অথচ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। তাই তাঁর দায়ের করা মামলার ঘটনার বিবরণ সন্দেহাতীতভাবে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক আব্দুর রফিক জানান, মামলার ঘটনার তারিখে সাজ্জাদ হোসেন কারাগারে ছিলেন। অথচ ওই তারিখে তাঁকে ভোটকেন্দ্রে মারধরের অভিযোগে মিথ্যা মামলা করেন। মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।

তিনি জানান, এই মিথ্যা মামলায় দুজন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছেন। জরিমানার অর্থ তাঁরা ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন। সাত দিনের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করে ব্যাংক চালানের কপি আদালতে জমা দিতে হবে। তা না হলে বাদীকেই এক মাস কারাভোগ করতে হবে।

মামলার বাদী বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আদালত উল্টো আমাকেই ১ লাখ টাকা জরিমানা করে দিয়েছেন। সাত দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা দিতে হবে। তা না হলে এক মাস জেল খাটতে হবে। এখন কী করি দেখি।’

মামলাটি মিথ্যা কি না জানতে চাইলে সাজ্জাদ বলেন, ‘আমি তো আসলে রাজনৈতিক মামলায় জেলে ছিলাম। মামলা করার সময় বিষয়টা মনে ছিল না। আদালতে যখন প্রমাণিত হয়েছে, তখন মামলা মিথ্যাই ছিল।’

রাজশাহীতে ফুয়েল অ্যাপ চালু, পাঁচ দিনে একবার নেওয়া যাবে তেল

রাবিতে তল্লাশি-কাণ্ডে হলের এজিএসসহ ৩ জনের আবাসিকতা বাতিল, ভিপিকে শোকজ

রাজশাহীতে ভোটের মাঠে নামলেন এনসিপির মেয়র প্রার্থী

হেলিকপ্টার নিয়ে হঠাৎ হাজির হওয়ার দিন আর নেই: শিক্ষামন্ত্রী

রেশমশিল্প ধরে রাখতে বোসনির পরবর্তী প্রজন্ম তৈরি করতে হবে: পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী

তুমি ফেল, ছয় মাস পর আমিও ফেল: শিক্ষামন্ত্রী

মায়েদের কোল ফাঁকা, কান্না থামছেই না

রাজশাহীতে ভ্যানচালককে মাথা থেঁতলে হত্যা

দুই উপদেষ্টার কাছে গ্যাস চাইলেন রাজশাহী অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা

মৃত্যুর পর রামেক পিআইসিইউতে সিট পেল নেহা, হামে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু