ঢাকার ধোলাইপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন জিকিরুল ওরফে জুয়েল মৃধা ও ইয়ানুর বেগম দম্পতি। ওই বাসায় গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইয়ানুর বেগমকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে জুয়েল মৃধার বিরুদ্ধে। হত্যার পর থেকেই জুয়েল মৃধা পলাতক রয়েছেন।
জুয়েল মৃধার ফাঁসির দাবিতে আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের বি বি রায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন ইয়ানুরের পরিবার। মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা জুয়েল মৃধার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
থানা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জুয়েল মৃধা গত ৪-৫ মাস আগে গলাচিপা উপজেলার বকুল বাড়িয়া ইউনিয়নের গুয়াবাড়িয়া এলাকার হানিফ হাওলাদারের মেয়ে ইয়ানুরকে বিবাহ করেন। বিবাহের পর থেকে ঢাকার ধোলাইপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইয়ানুর বেগমকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে কদমতলি থানা-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
ইয়ানুরের বাবা হানিফ হাওলাদার বলেন, ‘বিবাহের পর থেকে তাদের বনিবনা হচ্ছিল না। আমার মেয়েকে জুয়েল মৃধা হত্যা করেছে। কদমতলি থানায় জুয়েল মৃধার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছি। এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার না করায় আজ মানববন্ধন করা হয়েছে।’
জুয়েল মৃধার বসতঘর পোড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মানববন্ধনে আসা লোকজন ওই ঘর পোড়ায়নি। আমরা আইনে শ্রদ্ধাশীল। মানববন্ধন শেষে আমরা চলে এসেছি।’
জুয়েল মৃধার এক আত্মীয় জানান, ৪-৫ মাস আগে ভালোবেসে বিবাহ করে জুয়েল মৃধা ও ইয়ানুর। বিয়ের বিষয় জুয়েলের পরিবারের কেউ জানে না। হত্যার খবর প্রকাশের পর মেয়ের পরিবারের লোকজন জুয়েল মৃধার বাবার গরু-বাছুর নিয়ে যায়। আজ সকালে মানববন্ধন শেষে বসতঘর পুড়িয়ে দিয়েছে।
কদমতলি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে নিহতের শরীরে কোপানোর চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
জুয়েল মৃধার ঘর পোড়ানোর বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।