নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে মো. রাকিব (২৪) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আজ বুধবার দুপুরে ওই তরুণী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত রাকিব উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে। তিনি পৌরশহরের এক পল্লিচিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করেন।
লিখিত অভিযোগে তরুণী বলেন, রাকিবের সঙ্গে তাঁর প্রায় তিন বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। এর মধ্যে পারিবারিকভাবে অন্যত্র তাঁর বিয়ে হয়। পরে রাকিব আবারও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে পুনরায় যোগাযোগ তৈরি হয়।
তরুণীর অভিযোগ, গত ৮ জুন রাতে রাকিব বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁকে তাঁর স্বামীর বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর পর তরুণীর সঙ্গে তাঁর স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তরুণীর ভাষ্য, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তরুণীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রাকিব একাধিকবার ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। পরে রাকিবের হুমকির মুখে ওষুধ সেবনের পর তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। রাকিবের সঙ্গে ফেসবুক মেসেঞ্জারে হওয়া কথোপকথনের তথ্য তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর রাকিবের কর্মস্থল হাসপাতাল রোডের একটি পল্লিচিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে তিনি বিয়ের জন্য চাপ দেন। এ সময় রাকিব তাঁকে গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এরপর মোবাইল ফোন বন্ধ করে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
অভিযোগের বিষয়ে রাকিবের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, অভিযোগটি যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।