হোম > সারা দেশ > নেত্রকোণা

নেত্রকোনায় বাজারে ফাঁকা গুলি, সেই তাঁতী দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক ও বাজারে পড়ে থাকা গুলির খোসা। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার পূর্বধলায় ব্যস্ত বাজারে পিস্তল উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগে জেলা তাঁতী দলের সহসম্পাদক ও খলিশাউড় ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যানপ্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক ওরফে হাজী সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

আজ শুক্রবার পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল রাহিদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার ইচুলিয়া বাজারে একটি মসজিদের অনুদান সংগ্রহকে কেন্দ্র করে আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে মসজিদ কমিটির সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি পিস্তল বের করে উঁচিয়ে ধরেন এবং ফাঁকা গুলি ছোড়েন।

স্থানীয়রা জানান, খলিশাউড় ইউনিয়নের খলাপাড়া (দক্ষিণপাড়া) জামে মসজিদের মাইক কেনার জন্য ইমাম ও কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করছিলেন। ১৭ সেপ্টেম্বর আবু বকর সিদ্দিক চার হাজার টাকা অনুদান দেন। পরদিন আরেক চেয়ারম্যানপ্রার্থী মো. মাসুদ মিয়ার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়। বিষয়টি জানার পর আবু বকর ক্ষুব্ধ হন।

পরে শনিবার রাতে তিনি ইচুলিয়া বাজারের একটি কাপড়ের দোকানে মসজিদের ইমাম ও কমিটির সদস্যদের ডেকে তাঁর দেওয়া চার হাজার টাকা ফেরত চান। কমিটির সদস্যরা টাকা ফেরত দেওয়ার পর তিনি বাজারে তাঁর নির্বাচনী ব্যানারে কেউ যেন হাত না দেয়, সে বিষয়ে হুমকি দেন।

একপর্যায়ে তিনি পিস্তল বের করে ফাঁকা গুলি ছুড়লে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা ছোটাছুটি শুরু করেন। পরে তাঁর লোকজন তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে। ওই রাতেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

মসজিদের ইমাম উমর ফারুক ও কমিটির সহসভাপতি ফজল হক বলেন, আবু বকর সিদ্দিক তাঁদের ডেকে নিয়ে দেওয়া চার হাজার টাকা ফেরত নেন। এরপর কে গুলি ছুড়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি।

এ বিষয়ে আবু বকর সিদ্দিকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

তবে আবু বকর সিদ্দিকের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার দাবি করেন, তাঁর স্বামী গুলি ছোড়েননি। নির্বাচনী মাঠ থেকে তাঁকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চান।

জেলা তাঁতী দলের সভাপতি সাইফুদ্দীন আহমেদ লেলিন বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্বধলা থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আবু বকর সিদ্দিকের নামে কোনো অস্ত্রের লাইসেন্স নেই। তাই অস্ত্রটি অবৈধ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তার ও পিস্তলটি উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।