হোম > সারা দেশ > নেত্রকোণা

পূর্বধলায় বাজারে ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগ তাঁতী দল নেতার বিরুদ্ধে

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক ও বাজারে পড়ে থাকা গুলির খোসা। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার পূর্বধলায় ব্যস্ত বাজারে পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা তাঁতী দলের সহসম্পাদক ও খলিশাউড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক ওরফে হাজি সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে আবু বকরের স্ত্রী সোনিয়া আক্তারের দাবি, তাঁর স্বামী গুলি ছোড়েননি। নির্বাচনী মাঠ থেকে তাঁকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে অন্য কেউ গুলি ছুড়ে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে।

গত শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের ইচুলিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। গুলির শব্দে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর থেকে আবু বকর আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘নির্বাচনী মাঠ থেকে আবু বকরকে সরাতেই ষড়যন্ত্র করে এমন নাটক সাজানো হয়েছে। সে গুলি করেনি। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে বের করার দাবি জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই দিনের গুলির ঘটনার পর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে লাগানো শত শত পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এটাও প্রতিপক্ষের পরিকল্পনার আরেকটি অংশ।’

তবে একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুদ আলমের দাবি, মসজিদে দানের টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আবু বকর গুলি ছোড়েন। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি সবাই দেখেছেন। এখানে ষড়যন্ত্রের কোনো বিষয় নেই। প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হোক।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খলিশাউড় ইউনিয়নের খলাপাড়া শেখবাড়ী জামে মসজিদে মাইক কেনার জন্য আবু বকর সিদ্দিক চার হাজার টাকা অনুদান দেন। পরে একই কাজে আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুদ আলম পাঁচ হাজার টাকা অনুদান দেন। এ নিয়ে আবু বকর মসজিদ কমিটির লোকজনের কাছে তাঁর নির্বাচনী অবস্থান ও সমর্থনের বিষয়ে জানতে চান। একপর্যায়ে তিনি তাঁর দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে মসজিদ কমিটি তা ফেরত দেয়।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, টাকা ফেরত নেওয়ার পর আবু বকর বাজারে তাঁর লাগানো নির্বাচনী ব্যানারে কেউ যেন হাত না দেয়, সে বিষয়ে হুমকি দেন। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বাজারের মাঝখানে পিস্তল বের করে গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে গুলির শব্দে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তবে ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী গুলি ছোড়ার ঘটনায় কাউকে নিশ্চিত করে শনাক্ত করতে পারেননি। তাঁদের ভাষ্য, তাঁরা গুলির শব্দ শুনেছেন; কিন্তু ওই সময় বাজারে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারের মধ্যে কে গুলি ছুড়েছেন, তা দেখতে পারেননি।

এদিকে উপজেলা বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা দাবি করেন, আবু বকর সিদ্দিককে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরাতেই পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে বের করতে তিনি পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান।

জেলা তাঁতী দলের সভাপতি সাইফুদ্দীন আহমেদ লেলিন আবু বকর সিদ্দিকের দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, ‘আবু বকর সিদ্দিক যদি সত্যিই এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তবে তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবহিত করে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নেত্রকোনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার বলেন, আবু বকর সিদ্দিকের নামে কোনো বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স নেই। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধার ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।