নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দ্বারপ্রান্তে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনার প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছি। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করছি না।’
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নেত্রকোনা শহরের শিববাড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন ডিআইজি। সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ১ দিনের পর আরও ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
দ্রুতই মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন জাহিদুল হাসান। এ সময় তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে ধৈর্য ধরে কাজ করার সুযোগ দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান ডিআইজি।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে ডিআইজি জাহিদুল হাসান বলেন, নেত্রকোনা সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় অনেক সময় অপরাধীরা অপরাধ সংঘটিত করে সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে আসামিদের গ্রেপ্তারে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। তবে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে। এ মামলার তদন্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) যুক্ত করা হয়েছে। তারা ছায়া তদন্তের মাধ্যমে জেলা পুলিশকে সহযোগিতা করছে।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ডিআইজি বলেন, দুর্গাপূজার প্রতিটি আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ময়মনসিংহ রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক সভা করা হয়েছে। নেত্রকোনায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিরাপত্তা জোরদারে এক প্লাটুন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) মোতায়েন করা হয়েছে।
এ সময় নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম এবং নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির।
এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে তাঁর স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আট আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে গত শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে দুর্গাপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকায় পুরোনো সিনেমা হলের সামনে থেকে এ হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি সাজিবুল ইসলাম অপূর্বকে (২৪) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।