নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার খালুয়া দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে ১১ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ১০ জন শিক্ষক দিয়ে ৪১৩ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে। শিক্ষকসংকটের পাশাপাশি পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, ওয়াশব্লক ও যাতায়াতের উপযোগী সড়ক না থাকায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত খালুয়া দাখিল মাদ্রাসাটি ১৯৮৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে এখানে ৪১৩ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। অফিস সহকারীসহ অন্যান্য পদে কর্মরত আছেন পাঁচজন। তবে শিক্ষকের ১১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।
মাদ্রাসার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম থাকায় শিক্ষকদের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদে শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও প্রভাব পড়ছে।
শিক্ষকসংকটের পাশাপাশি অবকাঠামোগত সমস্যায়ও ভুগছে প্রতিষ্ঠানটি। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় কয়েকটি টিনশেড কক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে। রয়েছে একটি পুরোনো ও জরাজীর্ণ একতলা ভবন। ৪১৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত পানি ও স্যানিটেশন সুবিধাও নেই। প্রয়োজনীয় ওয়াশব্লক না থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা বলেন, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ও নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ এবং ওয়াশব্লকসহ প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার।
যাতায়াতের ক্ষেত্রেও রয়েছে ভোগান্তি। পাকা সড়ক থেকে মাদ্রাসা পর্যন্ত রাস্তাটি এখনো কাঁচা। বর্ষায় রাস্তায় কাদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
খালুয়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মোহাম্মদ আবদুল হেলিম ১১টি শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘শিক্ষকসংকটের কারণে পাঠদান পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ এবং মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।’
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবির আহাম্মাদ বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ থাকলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানিয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। মাদ্রাসাটি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।’