নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বাকিতে সিগারেট না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দোকানি ইব্রাহিম খলিলের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবক সুমন মিয়াকে (৩০) কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। আজ শুক্রবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে আজ শুক্রবার ভোরে উপজেলার রোয়াইলবাড়ী আমতলা ইউনিয়নের সহিলাটি এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সুমন উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের চেংজানা গ্রামের কাদের নেওয়াজের ছেলে।
অগ্নিদগ্ধ ইব্রাহিম খলিল (৪৫) একই গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে। তিনি সাহিতপুর বাজারে ‘ইসরাত জাহান স্টোর’ নামে একটি মনোহারি দোকান চালান। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দোকানে থাকা অবস্থায় সুমনের সঙ্গে বাকিতে সিগারেট দেওয়া নিয়ে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয় বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। একপর্যায়ে দোকানে বিক্রির জন্য রাখা পেট্রল তাঁর শরীরে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সুমনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় খলিলের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। তাঁর অবস্থা গুরুতর। প্রথমে তাঁকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার হাসপাতালে নেওয়া হয়। আগুনে তাঁর দোকানের অধিকাংশ মালামালও পুড়ে গেছে।
সান্দিকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলাম বলেন, আগুনে খলিলের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরপরই সুমনকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। দগ্ধ খলিলের স্বজনেরা ঢাকায় তাঁর চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকায় এখনো থানায় অভিযোগ দিতে পারেননি। তাঁরা এলাকায় ফিরে মামলা করবেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
ওসি আরও বলেন, অভিযোগ না হওয়ায় সুমনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়।