হোম > সারা দেশ > নেত্রকোণা

বাকিতে সিগারেট না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন, যুবক আটক

কেন্দুয়া প্রতিনিধি

পুড়ে যাওয়া দোকান। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বাকিতে সিগারেট না দেওয়ায় ইব্রাহিম খলিল (৩৮) নামের এক মুদি দোকানির গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মাদকাসক্ত যুবকের বিরুদ্ধে। আহত মুদি দোকানিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাহিতপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুমন মিয়াকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ। আটক সুমন উপজেলার চেংজানা গ্রামের খোদা নেওয়াজের ছেলে।

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চেংজানা গ্রামের সুলতানউদ্দিনের ছেলে ইব্রাহিম খলিল সাহিতপুর বাজারে মণিহারি পণ্যের পাশাপাশি খুচরা পেট্রল বিক্রি করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দোকানে থাকা অবস্থায় মাদকাসক্ত সুমন মিয়া সেখানে গিয়ে চড়াও হন। বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে দোকানে বিক্রির জন্য রাখা বোতলভর্তি পেট্রল খলিলের গায়ে ঢেলে দিয়ে গ্যাসলাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন সুমন।

মুহূর্তের মধ্যে ইব্রাহিম খলিলের শরীর আগুনে ঝলসে যায় এবং দোকানের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাজারে উপস্থিত লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিভিয়ে তাঁকে প্রথমে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে আজ শুক্রবার ভোরে ঢাকায় পাঠানো হয়।

আহত ইব্রাহিম খলিলের বাবা সুলতানউদ্দিন বলেন, ‘ছেলের অবস্থা ভালো না। তাঁকে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আমি সুমন মিয়ার কঠিন বিচার চাই।’

সুলতানউদ্দিন জানান, কিছুদিন আগেও সুমন তাঁর ছেলের দোকান থেকে টাকা-পয়সা ও মালামাল নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এ নিয়ে তখন ঝামেলা হয়েছিল। বিষয়টি বাজার কমিটির লোকজনকেও জানানো হয়েছিল।

আহতের সঙ্গে থাকা স্বজন মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ইব্রাহিম খলিলের প্রায় সারা শরীরেই ব্যান্ডেজ। নাক-মুখে নল লাগানো হয়েছে। শরীরে জ্বালা-পোড়ার কারণে তিনি খুব যন্ত্রণা ভোগ করছেন।

কেন্দুয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, রাতেই অভিযান চালিয়ে সুমন মিয়াকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এখনো কোনো মামলা হয়নি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ওসি আরও বলেন, সুমন মাদকাসক্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বাকিতে সিগারেট না পেয়ে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের পর জানা যাবে।