নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের নগুয়া গ্রাম থেকে নিখোঁজের সাত দিন পর নাজু আক্তার (৩৪) নামের এক নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সাবেক স্ত্রীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগে স্বামী নুরুল আমীনকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পাশের নদীর পাড় থেকে মাটি খুঁড়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। নিহত নাজু আক্তার সদর উপজেলার কাটলী এলাকার মো. ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। গ্রেপ্তার নুরুল আমীন নগুয়া কুশলগাঁও এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে নাজু আক্তার ও নুরুল আমীনের বিয়ে হয়। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে একাধিকবার বিচ্ছেদ হলেও পরবর্তীতে তাঁরা আবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে হত্যার কয়েক দিন আগে তাঁদের পুনরায় বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এ ছাড়া নাজু আক্তারের দায়ের করা ভরণপোষণ ও ধর্ষণের একটি মামলায় আসামি ছিলেন নুরুল আমীন।
পুলিশি তদন্তে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর নাজু আক্তার নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় ২২ সেপ্টেম্বর তাঁর ভাই শুভ নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির সূত্র ধরে তদন্তে নেমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাজুর সাবেক স্বামী নুরুল আমীনকে আটক করে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমীন পুলিশকে জানান, ভরণপোষণের ৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে নাজু আক্তারকে শহরের তেরিবাজার থেকে রিকশা ও পরে মোটরসাইকেলে করে খাটপোড়া ব্রিজ এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে টাকা নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে নাজুর বুকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরবর্তীতে পাশের শ্মশানঘাটে নিয়ে ওড়না পেঁচিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। হত্যা নিশ্চিত করার পর লাশ কাঁধে করে ঢুকিয়ালী নদীর পাড়ে নিয়ে যান এবং কোদাল এনে গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামলা ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষোভ থেকেই নাজু আক্তারকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন নুরুল আমীন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’