হোম > সারা দেশ > নেত্রকোণা

পশুর হাট নিয়ে সংঘর্ষের মামলায় ২৫ জামায়াত নেতা-কর্মী কারাগারে

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার পূর্বধলায় কোরবানির পশুর হাট ইজারা নিয়ে সংঘর্ষ ও এক যুবদল নেতার মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার দুপুরে নেত্রকোনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে আসামিরা জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ জানান, আসামিরা এর আগে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিনে ছিলেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ তাঁরা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করেন।

পূর্বধলা থানার ওসি মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, উচ্চ আদালতের দেওয়া আট সপ্তাহের আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আসামিরা আজ আদালতে হাজির হন। আদালত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত কোরবানির ঈদের আগে পূর্বধলা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৫৩টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিতে ১৯ মে দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। ২০ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনিম জাহানের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য নিলাম শুরু হয়। সেখানে বিএনপি ও জামায়াতের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।

নিলাম চলাকালে আগিয়া বাজারের ইজারা নিয়ে দরপত্রে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিএনপি নেতা-কর্মীরা আগিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান ও জামায়াত কর্মী এবাদুল ইসলামসহ কয়েকজনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষের বাইরেও দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পশুর হাটের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করে প্রশাসন।

ওই দিন বিকেলে হাট ইজারার বিরোধের জেরে জামায়াত নেতারা আগিয়া বাজারে যুবদল নেতা শাহরিয়ার ওমর শরীফের ওপর হামলা চালান এবং তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়। এর প্রতিবাদে ওই দিন সন্ধ্যায় উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছিলেন। এ ঘটনার পরদিন রাতে শাহরিয়ার ওমর শরীফ বাদী হয়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।