নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ৩৭ বছর বয়সী এক পোশাকশ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার নেত্রকোনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে তাঁদের পাঠানোর নির্দেশ দেন। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন দুর্গাপুর পৌরসভার মধ্যবাজার এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে হাসিবুল হাসান (২৫) ও জালাল উদ্দিনের ছেলে হাফিজুল হাসান রাব্বি (২৬)। মামলার অপর আসামি একই এলাকার মৃত সিদ্দিকের ছেলে আশিক মিয়া (২৬) পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে ভুক্তভোগী থানায় গিয়ে মামলা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ঢাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। তাঁর স্বামী পেশায় রাজমিস্ত্রি। পূজার ছুটিতে গত সোমবার ওই নারী দুর্গাপুরে তাঁর বাড়িতে আসেন। গত বুধবার রাতে পূজামণ্ডপে আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাড়ি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১২টার দিকে অভিযুক্ত তিন যুবক তাঁর দরজায় কড়া নাড়েন। দরজা খুললে অভিযুক্তরা তাঁকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে পাশের রান্নাঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে সুযোগ পেয়ে ভুক্তভোগী চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, ‘ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করি।’
ওসি আরও বলেন, ‘ভুক্তভোগী অত্যন্ত দরিদ্র। তিনি প্রথমে ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছিলেন না। তাই স্থানীয় সালিশে রাজি হন। পরে তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা নেওয়া হয়। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’