নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলীতে অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় জেলা এনসিপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তৌহিদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় বক্তাবলী ইউনিয়নের বক্তাবলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। তৌহিদের অভিযোগ, বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন তাঁর ওপর হামলা চালান। তবে হালিম আজাদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তাওহীদুল ইসলাম জেলা এনসিপির দায়িত্বের পাশাপাশি বক্তাবলী ইউনিয়ন এনসিপির সংগঠকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাবশালীদের অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছেন বলে জানিয়েছে এনসিপি।
জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জুবায়ের সরদার বলেন, ‘আজ বক্তাবলীতে আমাদের একটি ঘরোয়া বৈঠক ছিল। বিকেলে বক্তাবলী ঘাটে নামার পর এলাকার লোকজনের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ হয়। তারা আমাদের বলে, আমরা কেন এই এলাকার অবৈধ মাটি কাটা নিয়ে প্রতিবাদ করছি না। তাদের কথা শোনার পরপরই নেতা-কর্মীরা মিলে পুলিশ ফাঁড়িতে উপস্থিত হই এবং মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাই।’
জুবায়ের সরদার আরও বলেন, ‘সন্ধ্যায় তাওহীদুল ইসলামকে একা পেয়ে ১০ থেকে ১৫ জন মিলে অতর্কিত হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেয়। তাওহীদুল জানিয়েছে, বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। তাঁকে দ্রুত শহরের খানপুর ৩০০ শয্যার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
তাওহীদুল ইসলাম বলেন, ‘হালিম আজাদের নেতৃত্বে তার ভাই ইয়াসিন আরাফাত, সহযোগী নয়ন, ইমন, জুয়েল, আবুল খায়েরসহ কয়েকজন আমাকে চাপাতি ও এসএস পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। আমার সঙ্গে কয়েকজন ছোট ভাই ছিল। তারা বাধা দিতে এলে তাদেরও মারধর করা হয়।’
বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান ফকির বলেন, ‘আমি শুনতে পেরেছি, এনসিপির এক নেতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেলাম, আমাদের হালিম আজাদ নাকি এ হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে। এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানতে পারিনি। আমি খোঁজ নিচ্ছি।’
অভিযুক্ত হালিম আজাদ বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমি আজ বক্তাবলী থেকে অনেকটা দূরে আছি। আমি শুনেছি, বক্তাবলীতে এনসিপির তৌহিদের সঙ্গে কী ঝামেলা হয়েছে। কিন্তু এ ঘটনায় আমাকে অহেতুক জড়ানো হচ্ছে।’
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) শামীম হোসাইন বলেন, হামলার খবর পাওয়া গেছে। কে বা কারা হামলা চালিয়েছেন, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।