নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দম্পতিসহ চারজন দগ্ধ হয়েছেন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কাঁচপুরের সোনাপুর উত্তরপাড়ায় শাহ আলম মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ চারজনকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন বাড়ির ভাড়াটিয়া রোজিনা আক্তার (৩৫), তাঁর স্বামী শরীফ হোসেন, রোজিনার ভাই রিয়াজ হোসেন (২২) এবং ভাড়াটিয়া রনি মিয়া (১৯)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোজিনা আক্তারের শরীরের ৬০ শতাংশ, শরীফ হোসেন ও রিয়াজ হোসেনের শরীরের ৪০ শতাংশ করে এবং রনি মিয়ার শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
শরীফ হোসেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার গড়া এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে। রিয়াজ হোসেন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কালামপুর এলাকার বসু মিয়ার ছেলে। রনি মিয়ার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহ আলম মিয়ার ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে রাত দেড়টার দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। চিৎকার ও গোঙানির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন সেখানে গিয়ে চারজনকে উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে যান।
প্রতিবেশী লতিফা বেগম বলেন, বিস্ফোরণের সময় পুরো ভবন কেঁপে ওঠে। পরে এলাকাবাসী গিয়ে চারজনকে উদ্ধার করেন। রান্নাঘরে গ্যাস লিকেজ থেকে তাঁদের শরীরে আগুন ধরে যায়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের রেসিডেন্ট সার্জন (জরুরি বিভাগ) সুলতান মাহমুদ শিকদার রোববার সকালে বলেন, ‘দগ্ধ চারজনকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। চারজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।’
কাঁচপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পাইপলাইনে গ্যাস লিকেজের ফলে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরিত হয় ও আগুন ধরে যায়। পরে চারজনকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বিস্তারিত জানা যাবে।