হোম > সারা দেশ > নারায়ণগঞ্জ

নেতা-কর্মীর গায়ে হাত উঠলে থানার ইট খুলে নেওয়ার হুমকি এনসিপি নেতার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

যুবায়ের সরদার। ছবি: আজকের পত্রিকা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নেতা-কর্মীর গায়ে আবার হাত উঠলে থানার ইট খুলে নেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবায়ের সরদার। গতকাল সোমবার রাতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষের সামনে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও আজ মঙ্গলবার বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে যুবায়ের সরদারকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি যুবায়ের সরদার। নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক। যদি আমার একটা নেতা-কর্মীর গায়ে হাত তোলে, আমি লাশের বদলে লাশ নেব। আমার একটা নেতা-কর্মীর ওপর যদি হাত তোলে আর একবার, আমি থানার ইট খুলে নিয়ে যাব।’

গতকাল সদর উপজেলার বক্তাবলীতে জেলা এনসিপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তৌহিদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করতে থানায় যান দলটির নেতা-কর্মীরা। থানায় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এ বক্তব্য দেন যুবায়ের সরদার।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ফতুল্লা মডেল থানার ওসির কার্যালয়ের সামনে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবায়ের সরদারসহ এনসিপির ৩০ থেকে ৪০ জন নেতা-কর্মীকে অবস্থান করতে দেখা যায়। যুবায়েরের বক্তব্যের সময় উত্তেজিত নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতেও শোনা যায়।

বক্তব্যের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবায়ের সরদার বলেন, ‘সোমবার বিকেলে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এর মধ্যে একজন নেতার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী থানার সামনে জড়ো হয়েছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছিল না। তখন নেতা-কর্মীদের শান্ত করার জন্য আমি বলেছি, নেতা-কর্মীর গায়ে হাত উঠলে লাশের বদলে লাশ পড়বে। আবার আমাদের নেতা-কর্মীদের গায়ে হাত উঠলে, পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে থানার ইট খুলে নেওয়া হবে।’

যুবায়ের সরদার আরও বলেন, ‘এরপর পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত হয়ে আসে। সেই হামলার ঘটনায় পুলিশ মামলা নিয়েছে। মামলায় মোট ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘তাঁর ওই বক্তব্যের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’