নারায়ণগঞ্জের বন্দর
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছেলে ও তাঁর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার লাঙ্গলবন্দ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের পরিবারের সদস্যরা।
মাকসুদের পরিবারের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের ছেলে ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশার নেতৃত্বে তাঁর অনুসারী বিএনপির নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। তবে, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল কাউসার আশা।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনেরও দাবি, সেখানে হামলা বা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তা সামাল দিয়েছে।
মাকসুদ হোসেনের স্ত্রী নার্গিস মাকসুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আবুল কাউসার আশার উপস্থিতিতে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনীতে যাত্রাপথে শুভেচ্ছা জানাতে সকালে লাঙ্গলবন্দ এলাকায় অবস্থান নেন আবুল কাউসার আশার নেতৃত্বে বিএনপির লোকজন। শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেরার পথে দলবল নিয়ে তিনি হামলা চালান। হামলায় বাধা দিলে আমাদের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে মারধর করে কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।’
মাকসুদের ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভ বলেন, ‘পাশের একটি জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছে। প্রতিপক্ষের লোকজন জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সেখানে আমি একটি আধুনিক জিমনেসিয়ামও গড়ে তুলেছিলাম। কিন্তু হুমকির মুখে মালামাল সরিয়ে ফেলেছি। জমিটি দখলে নিতে দখলদারদের পক্ষ হয়ে এমপির ছেলে ও তাঁর লোকজন হামলা চালিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা নির্বাচন করায় আমাদের রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে রাখা হচ্ছে। নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।’
মাকসুদ হোসেন জাতীয় পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালে বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ওসমান পরিবার-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে দলীয় পদ হারান। ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবুল কালামের বিপরীতে সংসদ সদস্য প্রার্থী হন মাকসুদ হোসেন। যদিও নির্বাচনে স্বতন্ত্র এ প্রার্থী পরাজিত হন। ওই নির্বাচনের পর থেকেই মাকসুদ হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে আবুল কাউসার আশার বিরোধ চলছে।
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল কাউসার আশা বলেন, ‘আমরা আমাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে লাঙ্গলবন্দ গিয়েছিলাম। পরে কী হয়েছে, আমার জানা নেই।’
বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘পুলিশ সেখানে গিয়েছিল, হামলার কোনো তথ্য আমরা পাইনি। তাঁরা মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ লিখিতভাবে দিলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’